সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের মিয়াজি ঘাট এলাকায় ছোট ফেনী নদীর ভাঙনকবলিত অংশে আবারো বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে তিনটি বাল্কহেড বসিয়ে কয়েক দিন ধরে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরো বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক নারী রাজনৈতিক নেত্রী।
এ ঘটনায় গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগান চাকমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগে অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত মালার নেতৃত্বে একটি দল মিয়াজি ঘাটে যায়। সেখানে তিনটি বাল্কহেডের মাধ্যমে নদী থেকে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখে তারা প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে ঘটনাস্থলের ছবি প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।
মালা অভিযোগ করেন, বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করার পর হারুন নামের এক ব্যক্তি তাকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে প্রথমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তিনি রাজি না হলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। তিনি আমাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি বলেন, নদীভাঙনে এলাকাবাসীর ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি একের পর এক বিলীন হচ্ছে। এমন অবস্থায় নদী থেকে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে ভাঙনের মাত্রা আরো বাড়বে। জনস্বার্থে এ কার্যক্রম বন্ধে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের বন্যায় মুসাপুর রেগুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ছোট ফেনী নদীর তীরবর্তী চর মজলিশপুর, বগাদানা ও চর দরবেশ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে শত শত বসতঘর, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে। এমন সময় নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মালা দাবি করেন, প্রশাসনকে অভিযোগ জানানোর পর ইউএনওর নির্দেশে চর মজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তার অভিযোগ, কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি এ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত। তবে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগান চাকমা বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে জনস্বার্থবিরোধী বা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।



