গাজায় ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩

Printed Edition
গাজা ভূখণ্ডের মধ্যাঞ্চলীয় মাগাজি শরণার্থী শিবির এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলার পর জ্বলন্ত একটি ট্রাক অতিক্রম করছেন এক ফিলিস্তিনি : ইন্টারনেট
গাজা ভূখণ্ডের মধ্যাঞ্চলীয় মাগাজি শরণার্থী শিবির এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলার পর জ্বলন্ত একটি ট্রাক অতিক্রম করছেন এক ফিলিস্তিনি : ইন্টারনেট

আলজাজিরা ও আনাদোলু

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলায় চার বছরের এক শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, রোববার ইসরাইলি বাহিনী গাজার আজ-জাওয়াইদা শহরের একটি গুদামে আঘাত হানে, পাশাপাশি গাজার কেন্দ্রস্থলের সালাহ আল-দিন সড়কের দু’টি এলাকায় হামলা চালায়। আজ-জাওয়াইদায় ইসরাইলি হামলায় চার বছর বয়সী এক শিশু নিহত ও আরো ছয়জন আহত হয়। আর সালাহ আল-দিন সড়কে পৃথক দুই হামলায় আরো দুইজন নিহত হয়।

ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো নিহত ওই শিশুটিকে আবদেল সালাম তাহা বলে শনাক্ত করেছে। ইসরাইলি ড্রোনগুলো গাজা সিটির পূর্বদিকের আল-শুজাইয়্যা এলাকায়ও গুলিবর্ষণ করেছে, এতে একজন সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনুসে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় আরো ১০ জন আহত হয়েছে। আজ-জাওয়াইদা থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এখানে ইসরাইলি বাহিনী গুদামটিতে হামলা চালাতে দু’টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, এতে সেখানে আগুন ধরে যায় ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে ইসরাইলি হামলা বন্ধ হয়নি।

৪ হাজার ৩৭৯ বার চুক্তি লঙ্ঘন ইসরাইলের

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ৩১৫ দিনে ইসরাইলি বাহিনী চার হাজার ৩৭৯ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। তাদের হিসাবে, এসব ঘটনায় এক হাজার ২৮৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো চার হাজার ২৫৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গাজার সরকারি সংবাদমাধ্যম দফতর জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এ সময়ের মধ্যে ইসরাইলি বাহিনী ১৮০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার বা আটক করেছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৮১৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনগুলোর নিচে আট হাজারের বেশি মানুষের লাশ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে দফতরটি। ত্রাণ সহায়তার ক্ষেত্রেও যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করেছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস। তাদের হিসাব অনুযায়ী, চুক্তি অনুযায়ী গাজায় এক লাখ ৮৯ হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও প্রবেশ করেছে ৬৬ হাজার ৬০৭টি। অর্থাৎ নির্ধারিত সংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় ঢুকতে পেরেছে। এ ছাড়া রাফাহ ক্রসিং দিয়ে ২৯ হাজার ৮০০ জনের যাতায়াতের অনুমতি দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ১১ হাজার ৭৫৯ জন চলাচলের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছে দফতরটি। তাদের হিসাবে, এটি নির্ধারিত যাতায়াতের প্রায় ৩৯ শতাংশ। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষও এসব পরিসংখ্যান নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হামলা, আটক, ত্রাণ প্রবেশ ও সীমান্ত চলাচল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। ফলে গাজায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমতীরে অভিযান

অধিকৃত পশ্চিমতীরে সোমবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। একই সময়ে নাবলুসের কাছে একটি ইসরাইলি বসতি-চৌকি সম্প্রসারণে নতুন মোবাইল বাড়ি আনা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা যায়, নাবলুস প্রদেশের জিতা জাম্মাইন ও কুসিন শহর থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া তেল ও সালেম শহরেও বাড়িঘরে তল্লাশি চালানো হয়। তেল গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। জেনিন প্রদেশে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের একজন ফাতিহ খাজেমের ছেলে হাম্মাম। গত শুক্রবার ইসরাইলি বাহিনী ফাতিহ খাজেমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গুলি করে এবং অ্যাম্বুলেন্সকে তার কাছে যেতে বাধা দেয় বলে ওয়াফা জানিয়েছে। তুলকারেমে আরো একজনকে আটকের মধ্য দিয়ে সোমবার সকাল থেকে মোট আটক ১০ জনে দাঁড়ায়।