বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে দেশের শিক্ষাখাতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে দেখা দিয়েছে গুরুতর সমস্যা। সময়মতো স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে না পেরে প্রতিকূলতার মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ী শিখন পদ্ধতির ওপর জোর দেয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।
বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী নিজস্ব যানবাহনে চলাচল করে কিংবা যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব পরিবহনে শিক্ষার্থী আনা-নেয়া করে, তারা বেশি বিপাকে পড়েছে। জ্বালানি সঙ্কটের কারণে যেখানে সাধারণ পরিবহনই নিয়মিত চলাচল করতে পারছে না, সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবহনসেবা ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। যানজট কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী নয়া দিগন্তকে বলেন, দেশের সঙ্কটময় সময়ে সরকার যদি জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো নির্দেশনা দেয়, তবে তা অবশ্যই মানা হবে। পাশাপাশি বিকল্প উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার প্রস্তুতিও থাকতে হবে। অন্যদিকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর অভিভাবক সংগঠনের এক নেতা বলেন, রোজা ও ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যেও বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে আগেভাগেই সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ঈদের আগে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হবে। কিন্তু গত দুই সপ্তাহে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে বরং জ্বালানি সঙ্কট আরো তীব্র হয়েছে। ফলে বিকল্প শিখন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।



