বগুড়া অফিস
নতুন করে করারোপ ছাড়া আধুনিক, পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন মহানগর গড়ে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এক হাজার ৪১৭ কোটি ৪৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৭ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশন। দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরুর পর এটি প্রথম বাজেট।
গতকাল রোববার বিকেলে বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে বাজেট ঘোষণা করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। বাজেটে উল্লেখযোগ্য আয়ের খাত হলো- কর আদায় ৭৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সরকারি অনুদান চার কোটি ৪৬ লাখ টাকা, অন্যান্য রাজস্ব আদায় ১০ কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা, পানি সরবরাহ খাতে ৮০ লাখ ২০ হাজার টাকা, এডিপি থেকে ৬১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, প্রকল্প খাতে ৬৮০ কোটি টাকা। অপর দিকে ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য খাতগুলা হলো- সাধারণ সংস্থাপন ৫২ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শিক্ষা খাতে দুই কোটি ৫৪ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ১২ কোটি ৪১ লাখ টাকা, এডিপির ব্যয় ৬৩০ কোটি টাকা, প্রকল্প ব্যয় ৬৮০ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে নাগরিকদের ওপর নতুন কোনো কর আরোপ না করেই ২৮টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, সিভিল সার্জন ডা: মো: খুরশীদ আলম, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী, সচিব মোছা: পপি খাতুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল ও জয়নাল আবেদীন চাঁন, জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট রিয়াজ উদ্দিন, এনসিপি জেলা সভাপতি এম এস মাহমুদ।
বাজেট উপস্থাপনকালে প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়নবৈষম্য দূর করে বগুড়াকে দেশের অন্যতম আধুনিক মহানগরে রূপান্তর করাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো সিটি করপোরেশনের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ, সুবিল খাল ও করতোয়া নদী পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ-ব্যবস্থা এবং রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাথ পুনর্নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।



