আইনি পথে যাচ্ছে না বিসিবি

Printed Edition
আইনি পথে যাচ্ছে না বিসিবি
আইনি পথে যাচ্ছে না বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নাটকীয়ভাবে আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে যাচ্ছে না তারা। আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানাতেই আগের রাতে মিরপুরে শুরু হয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। একই সময়ে চলমান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের সভাতেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা সালিশি উদ্যোগে যাবে না বিসিবি।

আইসিসির ঘোষণার পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে, বিসিবি চাইলে আদালত বা আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে যেতে পারে। তবে আইসিসি বোর্ড সভায় ১৪-২ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ায় সেটি বদলানোর আইনি সুযোগ আছে কি না, তা নিয়েই শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। এই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিসিবি পরিচালক ও বোর্ডের মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তার ভাষায়, আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া ছাড়া অন্য কোনো পথে হাটছে না বিসিবি।

আমজাদ হোসেনের কথায়, ‘আমরা আইসিসির সিদ্ধান্তই মেনে নিয়েছি। যেহেতু আইসিসি বলেছে, শ্রীলঙ্কায় আমাদের খেলা স্থানান্তর করতে পারবে না তারা, এই ক্ষেত্রে আমরা ভারতে গিয়ে খেলতে পারছি না। আমাদের অবস্থান ওখানেই আছে। এখানে আমাদের আর আলাদা কোনো আরবিট্রেশন বা কিছুর মধ্যেই আমরা যাচ্ছি না।’

বিশ্বকাপ ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন এই বিসিবি পরিচালক। এর আগে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকারের। আমজাদ হোসেনের বক্তব্যেও উঠে এসেছে একই বিষয়। ‘আইসিসি বোর্ড সভার পর বাংলাদেশ সরকারের ক্যাবিনেট মিটিং ছিল এবং ওখানে সিদ্ধান্ত আসে। সিদ্ধান্তে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ওই সূচিতে পরিবর্তন না হলে, ভারতে গিয়ে আমাদের দল অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এটা সরকার থেকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়েছে।’

আইসিসির পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থান জানাতে বলার কথাও উল্লেখ করেন আমজাদ হোসেন। সে ক্ষেত্রেও বিসিবি সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যায়নি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ওটার পরে আমরা পরবর্তীতে আইসিসি বলেছিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপ্লাই করতে। আমরা তাদেরকে আবারও জানিয়েছি বিনয়ের সঙ্গে, এই ফিক্সচার অনুযায়ী আমাদের পক্ষে খেলতে যাওয়া সম্ভব না। বোর্ডের অবস্থান এখন পরিষ্কার-বিশ্বকাপ ইস্যুতে আইসিসির রায় মেনেই এগোবে বাংলাদেশ!

গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। আসিফ আকবর জানান, ‘গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের নিজস্ব প্রশ্ন ছিল এখানে। তাদের একটা গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকে যে আমাদের ক্রিকেটার, সাংবাদিক, দর্শক বা ট্যাকটিক্যাল লোকজন যাবে, তাদের নিরাপত্তা ইস্যু ও সেখানে যে ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে, সেগুলোকে মাথায় রেখেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মুহূর্তে যদি কোনো নাশকতামূলক ঘটনাও ঘটে, সেটার দায়দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না। এটাই সরকারের সিদ্ধান্ত।’