যে ভুলের কারণে বাড়তে পারে ব্লাড সুগার

Printed Edition

ডায়াবেটিসের কারণে ব্লাড সুগারের সমস্যা এখন ঘরে। অজান্তেই আমরা এমন কিছু ভুল করে ফেলি, যা সরাসরি আমাদের ব্লাড সুগার লেভেলের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে খালি পেটে ভুল খাবার বা পানীয় রক্তে শর্করার ভারসাম্য এক নিমেষে বিগড়ে দিতে পারে।

যে ভুল করা যাবে না

১. সকালে খালি পেটে ফ্রেশ জুস খাওয়া স্বাস্থ্যকর মনে হলেও এটি সুগার বাড়াতে পারে। জুসে ফাইবার কম থাকায় শর্করা খুব দ্রুত রক্তে মিশে গিয়ে সুগার স্পাইক ঘটায়। এর ফলে শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

২. অনেকেই ওজন কমাতে সকালে শুধু ব্ল্যাক কফি খেয়ে দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকেন। ক্যাফেইন খালি পেটে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা লিভার থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ নির্গত করতে সাহায্য করে। এ অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

৩ . খালি পেটে শরীরচর্চা চর্বি কমাতে সাহায্য করলেও সবার জন্য এটি ঠিক নয়। বিশেষ করে হাই-ইনটেনসিটি ব্যায়াম করলে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত এনার্জি না থাকায় শরীর পেশি ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে, যা ব্লাড সুগারের ভারসাম্য বিগড়ে দেয়।

৪. সকালে ওঠে বিস্কুট, সাদা পাউরুটি বা প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এ ধরনের খাবারে থাকা রিফাইনড কার্ব খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা অনেকটা বেড়ে গিয়ে আবার দ্রুত পড়ে যায়, যা শরীরের জন্য ক্লান্তিকর।

৫. ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এখন জনপ্রিয় হলেও শরীরের প্রয়োজন না বুঝে এটি করা বিপজ্জনক হতে পারে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে এবং সেসাথে মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাব যোগ হলে শর্করার ভারসাম্য বিগড়ে যায়। এর ফলে শরীরের মেটাবলিজমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৬. সকালে চিনিযুক্ত পানীয়র বদলে পর্যাপ্ত পানি পান দিয়ে দিন শুরু করুন। প্রাতঃরাশে প্রোটিন, ফাইবার এবং হেলদি ফ্যাট রাখার চেষ্টা করুন, যা সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখবে। ক্যাফেইন নেয়ার আগে সামান্য কিছু খেয়ে নেয়া সর্বদা বুদ্ধিমানের কাজ।

৭ . রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সময়মতো খাবার খাওয়া জরুরি। সামান্য অবহেলা শরীরের গ্লুকোজ লেভেলকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে সকালের এ ভুলগুলো আজই শুধরে নেয়ার চেষ্টা করুন। ইন্টারনেট।