তুহিন আহামেদ আশুলিয়া (ঢাকা)
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক বছরের পর বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। খানাখন্দ, গর্ত আর কাদা পানিতে ভরা এসব রাস্তায় চলাচল যেন এক প্রকার দুঃসাহসিক অভিযান। গাড়ি তো দূরের কথা, খালি পায়ে হেঁটেও পার হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষের জীবনযাত্রা ও কর্মজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসুতি হয়ে মরিচকাটা, দীঘিরপাড় কলেজপাড়া, হারুন গেট এলাকার আঞ্চলিক সড়কটি কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একই ইউনিয়নের হারুনগেট-ফকিরপাড়া, জিরানী মেম্বারবাড়ি-উত্তরপাড়া সড়কসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকবার জরিপ ও মাপঝোক হলেও বাস্তবে কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। অথচ এই সড়কগুলো দিয়েই প্রতিদিন শত শত পোশাকশ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চলাচল করে। মরিচকাঁটা, নামাপাড়া, বড়টেক ও কলতাসুতি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য এই সড়কই একমাত্র ভরসা, কিন্তু এখন সেটিই তাদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব দেওয়ান বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা জমে যায়। কাদা-মাটিতে পড়ে রিকশা আটকে যায়, আবার যাত্রী নামিয়ে টেনে তুলতে হয়।’ অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা বা জরুরি কাজে রোগী পরিবহন করতেও ভয়াবহ ভোগান্তি পোহাতে হয়।
অন্যদিকে সড়ক অব্যবহৃত থাকায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মরিচকাঁটা গ্রামের বাড়িওয়ালা আজিম হোসেন বলেন, ‘রাস্তাঘাটের এই অবস্থার কারণে ভাড়াটিয়ারা চলে যাচ্ছে। এখন খালি রুমে তালা ঝুলছে।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়নের কাজ হলেও এই সড়কটি বছরের পর বছর অবহেলিত রয়ে গেছে। অথচ রাস্তার পাশে রয়েছে স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও পোশাক কারখানা, যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করে।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মান্নান হোসেন বলেন, ‘এই সড়কগুলোর সংস্কারের জন্য আমি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি।’
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক কামরুজ্জামান জানান, ‘সংস্কার প্রয়োজন এমন সড়কের তালিকা উপজেলা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশাবাদী, অচিরেই কাজ শুরু হবে।’
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘যেসব সড়কের তালিকা অনুমোদিত হচ্ছে, সেগুলোর কাজ ধীরে ধীরে চলছে। শিমুলিয়া এলাকার সড়কগুলোও প্রক্রিয়াধীন।
কিন্তু তত দিন পর্যন্ত স্থানীয়দের দৈনন্দিন কষ্ট যেন কমার নয়। মানুষ এখন শুধু একটি প্রশ্নই করছে, ‘রাস্তা হলে আমরা স্বস্তি পাব কবে?’



