ফাওয়াদ-মাহিরার ‘নিলোফার’ নতুন যুগের বিপণন কৌশল

সাকিবুল হাসান
Printed Edition
ফাওয়াদ-মাহিরার ‘নিলোফার’ নতুন যুগের বিপণন কৌশল
ফাওয়াদ-মাহিরার ‘নিলোফার’ নতুন যুগের বিপণন কৌশল

পাকিস্তানের দুই জনপ্রিয় তারকা ফাওয়াদ খান এবং মাহিরা খান যখন তাদের আসন্ন ছবি নিলোফার-এর প্রচারে আবার একসাথে এলেন, তখন এই প্রচার অভিযানটি চিরাচরিত সিনেমার প্রচার না হয়ে একটি সুচিন্তিত, বহু-স্তরের বিপণন কৌশল হিসেবে উঠে এলো।

সাধারণ ট্রেলার প্রকাশ, কেনাকাটার কেন্দ্রে ঘোরা এবং বিদেশের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বাইরে গিয়ে, নিলোফার-এর প্রচার ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সামগ্রিক। এই দলটি আবেগপূর্ণ গল্প বলা, সবার জন্য উন্মুক্ত প্রচার এবং সাধারণ ভক্তদের সরাসরি অংশগ্রহণের সাথে প্রবাসী দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর পদ্ধতিকে এমনভাবে মিশিয়েছিল যা পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের বাজারে ছিল প্রথম।

লাহোর বাসযাত্রা : প্রচারণার একটি বিশেষ পদক্ষেপ ছিল লাহোরে বাস ভ্রমণের মাধ্যমে ছবির প্রচার। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা (ইনফ্লুয়েন্সার) এই যাত্রায় অংশ নেন। ফাওয়াদ ও মাহিরার মতো তারকাদের একটি সাধারণ বাসে দেখা ভক্তদের জন্য ছিল এক দারুণ অভিজ্ঞতা। এটি নিছক প্রচারের চেয়ে লাহোরের প্রতি একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি ছিল, যার ফলে তৈরি হওয়া ভিডিওগুলি দ্রুত ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ে।

তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো : লাহোরের এলইউএমএস ও ইউসিপি-এর মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিলোফারের প্রচার ছিল একটি বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে দল তরুণ প্রজন্মকে তাদের নিজস্ব পরিবেশে, অর্থাৎ ক্যাম্পাসে, কাছে পেয়েছিল। সরাসরি ক্যাম্পাসে গিয়ে তারকারা তরুণদের সাথে দেশীয় চলচ্চিত্রের দূরত্ব কমাতে সাহায্য করেন, যা প্রচারকে বিজ্ঞাপনের বদলে একটি অভিজ্ঞতায় পরিণত করে।

আবেগপূর্ণ সততা : এই প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তারকাদের আবেগপূর্ণ সততা। সংরক্ষিত স্বভাবের ফাওয়াদ এবং মাহিরা দুজনেই নিজেদের ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করেন। মাহিরা যখন করাচি নিয়ে নস্টালজিক হন বা ফাওয়াদ যখন কঠিন সময়ে বন্ধুদের সাহায্যের কথা বলেন, সেই অকপট মুহূর্তগুলো দর্শকদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করে। এই সততা ছবিটিকে নিছক প্রচারের বিষয় না হয়ে সাংস্কৃতিকভাবে প্রাসঙ্গিক করে তোলে।

গাড়ির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার : পাকিস্তানি ছবির প্রচারে গাড়ি বিপণন প্ল্যাটফর্ম ‘পাক হুইলস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুনীল মুঞ্জকে যুক্ত করা ছিল অপ্রত্যাশিত কিন্তু কার্যকর। মুঞ্জ-এর গাড়ি পর্যালোচনার অনুষ্ঠানে ফাওয়াদ ও মাহিরা ছবির গুরুত্বপূর্ণ ভিনটেজ মার্সিডিজ গাড়িতে চড়ে ছবি ও নিজেদের সম্পর্কে কথা বলেন, যা প্রচারের কৌশলকে একটি নতুন মাত্রা দেয়। নিলোফার-এর এই প্রচার কৌশলটি দেশীয় সাংস্কৃতিক জ্ঞানের সাথে আধুনিক বিপণন নীতিগুলোকে একত্রিত করেছে। এটি পাকিস্তানি চলচ্চিত্র প্রচারের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।