সংসদ প্রতিবেদক
সমাজে দুর্নীতির গভীর বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতির মাত্রা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছেÑ যা কেবল বিরোধী দলের দাবি নয়, বরং খোদ রাষ্ট্রপতির বক্তব্যেও তা প্রতিফলিত হয়েছে। দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল না করা গেলে সমাজ কোনোভাবেই সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী দিনে প্রদত্ত বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। এক দীর্ঘ ভাষণে ডা: শফিকুর রহমান দেশের অর্থনীতি, দুর্নীতি, শিাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিল্প খাতের সঙ্কট, প্রশাসনিক বৈষম্য, বৈদেশিক নীতি এবং ২৪-এর বিপ্লব-পরবর্তী সার্বিক বিচারিক প্রক্রিয়া ও গণভোট বাস্তবায়নের ওপর বিশদ আলোকপাত করেন।
দুর্নীতি নির্মূল ও মেধাভিত্তিক সমাজ
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জাতীয় জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, বিগত চার-পাঁচ মাসে ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থান থেকে চেষ্টা করলেও পুরো প্রশাসনিকব্যবস্থা ও সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ প্রয়োজন। তা না হলে দেশের সব উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এবং দুর্নীতিবাজদের পেটে চলে যাবে।
শিা ও কর্মসংস্থানের েেত্র মেধার সঠিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জাতি আশা করেছিল একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। বিভিন্ন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জায়গায় দলীয় প্রশাসন ও সরকারি বিভিন্ন করপোরেশন বা সংস্থায় দলীয় ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি চাকরিতে ভাইভা এবং লিখিত পরীার নম্বর সমান করার উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, এই সিদ্ধান্ত তরুণ সমাজের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলও এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। প্রচলিত নিয়ম বহাল রেখে মেধাবীদের যথাযথ সম্মান দিয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ দেয়ার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শিাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব বন্ধের দাবি
শিা খাতের দুরবস্থা নিয়ে ােভ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শিা হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড, অথচ দু’টি উপায়ে এই খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রথমত, শিাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চর দখলের মতো দখলদারিত্ব চালানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, অবাধ নকল ও প্রশ্নপত্র সরবরাহের মাধ্যমে শিার মানকে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে শিাপ্রতিষ্ঠানে গেস্টরুম, গণরুমের সংস্কৃতি, অস্ত্রের ঝনঝনানি কিংবা চর দখলের মতো ঘটনার অবসান ঘটবে। আমাদের সন্তানদের হাতে কলমের বদলে আর যেন অস্ত্র তুলে নিতে না হয়, সেই নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ শিাঙ্গন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে নৈতিকতা ও দতার ভিত্তিতে কারিকুলাম ও সিলেবাস সাজিয়ে তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান।
শিল্প খাতের সঙ্কট ও জ্বালানি সমস্যা
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি ও শিল্প খাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ছোট ভৌগোলিক সীমানার কারণে কৃষিতে নাটকীয় সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত হলেও শিল্প খাতে বিপুল জনসংখ্যাকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কটের কারণে শিল্প খাত মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সংসদে সরকারি দলের এক পোশাক ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাকশিল্পসহ সামগ্রিক উৎপাদন খাতে উৎপাদন সমতা ত্রেবিশেষে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্পের উৎপাদন যদি এভাবে কমতে থাকে, তবে মালিকরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করবেন কিভাবে, প্রতিষ্ঠান বাঁচাবেন কিভাবে এবং লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান বজায় রাখবেন কিভাবেÑ তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একবার বিদেশী ক্রেতারা (বায়ার) মুখ ফিরিয়ে নিলে তাদের ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তাই জাতীয় স্বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফান্ড বরাদ্দ বা কাটছাঁট করে হলেও অবিলম্বে শিল্প খাতকে বাঁচাতে কার্যকর পদপে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে সরকারের দৃশ্যমান ভূমিকা দেখতে চান বলে জানান।
চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান
দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ও জনজীবনের দুর্বিষহ অবস্থার কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জ্বালানির সঙ্কট সাধারণ মানুষের সহনশীলতার মধ্যে আনতে হবে। পরিবহন খরচ বাড়ার মূল কারণ সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার করার পাশাপাশি কৃষক যাতে পণ্যের সঠিক মূল্য পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। খেত থেকে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের হাত ঘুরে পণ্যের দাম বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার বৈষম্য দূর করার তাগিদ দেন তিনি। এ ছাড়া দেশজুড়ে চাঁদাবাজির যে দৌরাত্ম্য চলছে, তা থেকে সমাজকে মুক্ত করতে পারলে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মত প্রকাশ করেন।
আইনশৃঙ্খলা ও বৈষম্যহীন আমলাতন্ত্র
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিশেষ করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র কেবল নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং দেশ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে। এর সাথে জড়িত কোনো চিহ্ন রাখা যাবে না, কারণ এর ফলে দেশের তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য খাতের বৈষম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে সততা ও দতা থাকা সত্ত্বেও কেবল বিরোধী দলের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার অভিযোগে বহু কর্মকর্তা পদবঞ্চিত ও নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। পরিবর্তিত বাংলাদেশেও সেই বৈষম্যের পুনরাবৃত্তি বিরোধী দল দেখতে চায় না। সততা, দতা ও কমিটমেন্টের ভিত্তিতে সবাইকে মূল্যায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে তিনি তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা (ঢাকা-১৫) এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ও হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের জনবল সঙ্কট ও বেহালদশার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক কলেজে ২৯৩ জন অনুমোদিত পদের বিপরীতে মাত্র ১০৩ জন কর্মরত আছেন। এসব সাশ্রয়ী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং উপযুক্ত আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার
রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থায় ফ্যাসিবাদী ধারার পুনরাবৃত্তি রোধে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন জামায়াত প্রধান। তিনি বলেন, দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ও কনসেন্সাস কমিশনের সিদ্ধান্তের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে ৬৮.২ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে রায় দিয়েছেন। কিন্তু সংসদ চালু হলেও গণভোটের সিদ্ধান্তের কোনো বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কেবল সংসদে সাধারণ সংশোধনী পাস করলে তা পরবর্তীতে আদালতে আইনি জটিলতায় পড়ে বাতিল হতে পারে। কিন্তু গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার সাধিত হলে তা টেকসই হয় এবং কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের উত্থান রোধ করা সম্ভব হয়। তাই জনরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত গণভোটের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও ভারতের ভূমিকা
পররাষ্ট্রনীতির েেত্র বিরোধীদলীয় নেতা সার্বভৌম ও স্বাধীন অবস্থানের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবদানকে বাংলাদেশ অস্বীকার করে না, তবে বাংলাদেশের খুনিদের আশ্রয় দেয়া এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেয়া দুঃখজনক।
তিনি স্পষ্ট জানান, সীমান্তে ফেলানীর মতো লাশ দেখতে চাই না, কিংবা নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা সহ্য করা হবে না। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার সমাধান এবং গঙ্গা চুক্তির নবায়নে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে শক্তিশালী নীতিমালার ভিত্তিতে আলোচনা করতে হবে। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘লড়াই হবে সমানে সমান। বাংলাদেশ আর কোনো দেশের অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে নাÑ ওই চ্যাপ্টার চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।’
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণহত্যা মামলা
২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবকালে সংঘটিত গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে অগ্রগতি হয়েছিল, বর্তমান সরকারের গত ছয় মাসে তা স্থবির হয়ে পড়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যরা আজ বিচারের দাবিতে হাহাকার করছেন। তিনি বিশেষ করে শহীদ শরিফ ওসমান হাদিসহ সব বিপ্লবীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও সাধারণ আদালতে সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। একই সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ল্েয গঠিত পৃথক সচিবালয়ের কার্যক্রম কার্যকর রাখার আহ্বান জানান।
সংসদে বিরোধী দলের অধিকার ও সংসদ সদস্যের মর্যাদা
সংসদের ভেতরে উন্নয়ন বরাদ্দ ও নারী সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বৈষম্যের তীব্র সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, ফান্ড বরাদ্দের েেত্র বিরোধীদলীয় সদস্যরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। সরকারি দলের সংরতি নারী সদস্যদের বরাদ্দ দেয়া হলেও বিরোধী দলের নারী সদস্যরা তা পাননি। এমনকি বিরোধী দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আসনে সরকারি দলের সংরতি নারী সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কাজের েেত্র বিভ্রান্তি ও দ্বন্দ্ব তৈরি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ ভবনে সংসদ সদস্যদের বসার স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংসদ সদস্যদের বসা সমীচীন নয়। এতে প্রশাসনিক জটিলতা ও মর্যাদাহানি ঘটে। তাদের জন্য পৃথক সম্মানজনক ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত অতীত ধারায় কাজ করাই শ্রেয়।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে রাষ্ট্রপতি যেন স্বাক্ষর না করেন
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, এই আইনটি কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সরকার যেহেতু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন করা হবে না, তাই তিনি আইনটিতে স্বার না করার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি অনুরোধ জানান। একই সাথে আইনটি পুনর্বিবেচনার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আলেম-ওলামাদের কাছে পাঠানোর আহ্বান জানান।
জাতীয় ঐক্য ও শালীন রাজনীতির প্রতিশ্রুতি
বক্তব্যের শেষে ডা: শফিকুর রহমান জাতিকে বিভক্ত না করে জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানান। তিনি অঙ্গীকার করেন, বিরোধী দল হিসেবে সংসদ বা রাজপথে তাদের বক্তব্য হবে অত্যন্ত যৌক্তিক, গঠনমূলক ও শালীন। কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে নীতি ও যুক্তির ভিত্তিতে রাজনীতি করার এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে এক নতুন উদাহরণ ও ইতিহাস সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিরোধীদলীয় নেতার সাথে নেপালের রাষ্ট্রদূতের সাাৎ
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কারকিও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে নেপালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূমিধস ও পাহাড়ধসে শোক প্রকাশ করেন ডা: শফিকুর রহমান। তিনি নেপালের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চান।
নেপালের রাষ্ট্রদূত সহানুভূতি প্রকাশের জন্য বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। প্রাকৃতিক দুর্যোগের শুরু থেকেই তার আন্তরিক তৎপরতা ও শোকবার্তা প্রেরণের কথা উল্লেখ করে তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
বৈঠকে নেপালে চলমান উদ্ধার তৎপরতা, মানুষের দুর্ভোগ, ভূমিধসজনিত ধ্বংসযজ্ঞ ও য়তির বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করেন ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী।
এর পরিপ্রেেিত ডা: শফিকুর রহমান নেপালের সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর প থেকে নেপালের পাশে সর্বাত্মকভাবে থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।



