সাক্ষাৎকার : অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপি

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিয়ে বিতর্ক অমূলক

সরকার সবসময় বলেছে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। সেখানে তো হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। এখন যে অর্ডিনেন্সটা করেছে আমরা সেটাকে রহিত করে একটা বিল পাস করেছি। সরকার তো সেটা পারে। সেটা তো সরকারের এখতিয়ার।

রাশিদুল ইসলাম
Printed Edition

বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা অমূলক। বিষয়টি নিয়ে অনেকে না বুঝে-শুনে কথা বলছেন। সরকার তো বলেনি যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মানি না বা বিচার বিভাগ স্বাধীন হোক তা চাই না।

নয়া দিগন্ত : কিন্তু বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আনিত অধ্যাদেশটি সংসদে অনুমোদন পায়নি, এটা কি হস্তক্ষেপ হয়ে গেল?

জয়নুল আবেদীন : সরকার সবসময় বলেছে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। সেখানে তো হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রশ্নই আসে না। এখন যে অর্ডিনেন্সটা করেছে আমরা সেটাকে রহিত করে একটা বিল পাস করেছি। সরকার তো সেটা পারে। সেটা তো সরকারের এখতিয়ার। আছে না?

নয়া দিগন্ত : সরকার তো ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে...

জয়নুল আবেদীন : সবকিছুর মালিক হলো জনগণ। জনগণ পার্লামেন্টে সদস্যদের নির্বাচিত করেছে। তারা তো চিন্তাভাবনা করেই একটা আইন পাস করবে, নাকি? সেখানে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিয়ে ধোঁয়াশার কোনো কারণ নাই।

নয়া দিগন্ত : তাহলে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা কি সঙ্কটের দিকে মোড় নিতে পারে?

জয়নুল আবেদীন : না, না। এটা কোনো সঙ্কটের মধ্যে যাবে না, তার কারণ হলো বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আগে যে হস্তক্ষেপ হত, সেটা হলো যেমন সুপ্রিম কোর্টে বেগম খালেদা জিয়ার মামলা আমরা ফেস করেছি, তখন সরকার হস্তক্ষেপ করেছে। অ্যাপিলেট বিভাগ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করেছে, তারপর একজন প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। আমাদের সরকার সে ব্যবস্থা বা অবস্থার মধ্যে যাচ্ছে না।

নয়া দিগন্ত : অনেকে সন্দেহ করছেন, ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ার সময় আগে যেমন বিচারপতির বয়স বাড়ানো হয়েছিল, বা সরকারের পছন্দনীয় ব্যক্তি তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হতে পারেন; এজন্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আর থাকছে না।

জয়নুল আবেদীন : না, না, এ রকম কোনো অবস্থান আমাদের নাই। চিন্তাভাবনা নাই।

নয়া দিগন্ত : তাহলে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিয়ে সন্দেহ বা ভয়ের কারণটা কী?

জয়নুল আবেদীন : এটা অহেতুক। অহেতুক। অহেতুক। অহেতুক।

নয়া দিগন্ত : বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে সরকারের পর্যালোচনা কতদিন সময় লাগতে পারে?

জয়নুল আবেদীন : আমরা যে বিল এনেছি, এখন যদি অন্য কেউ মনে করে যে বিলটা সঠিক হয়নি, আরেকটি বিল আনতে পারে। কিন্তু সে বিলটা সমর্থনযোগ্য বিল হতে হবে।

নয়া দিগন্ত : তো সরকারের সাথে বিরোধী দলের বিষয়টি নিয়ে অংশীদারত্ব বা আলাপ-আলোচনার সুযোগ কোথায়?

জয়নুল আবেদীন : সরকারের সমর্থন আছে বা নাই এমন কোনো বিল তো সংসদে এখনো আসেনি। বিরোধী দলতো কোনো বিল আনেনি।

নয়া দিগন্ত : সমাধানের পথ কী?

জয়নুল আবেদীন : বিরোধ হলে না সমাধান হবে। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিয়ে কোনো বিরোধ তো আমি দেখি না। আমি আশাবাদী, সরকারের অঙ্গীকার আছে, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ হবে।