একশ’ ষাট.
নৌকা ধাক্কা লাগার কারণে টাল সামলাতে না পেরে জুয়েল হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল নদীতে। পুরোপুরি পড়ল না। তার এক পা তখনো নৌকার কিনারে বেঁধে আছে।
‘মা গো!’ বলে জুয়েল যেভাবে চিৎকার দিয়ে তার বিস্মৃতপ্রায় মাকে ডাকল তাতে কবরে থাকলে সেখান থেকে তার মায়ের উঠে আসার কথা।
পানির দিকে তার শরীরের বেশি অংশ চলে যাওয়ার কারণে নৌকায় বেঁধে থাকা পা-ও শরীরের টানে নদীর ভেতরে চলে গেছে।
মাগো চিৎকারে সবার চোখ তার দিকে চলে গেছে। নাভিদ ত্বরিতগতিতে সাড়া দেয়ার আগেই অপূর্ব একটা দৃশ্য দেখতে পেল। একটু আগে লজ্জায় গলদা চিংড়ির মতো লাল হয়ে যাওয়া মেয়েটি বাঘের ক্ষিপ্রতায় জননীসম সাহসিকার মতো নাভিদকে টপকে ঝপ করে লাফ দিয়ে পড়ল পানিতে।
মুহূর্তেই আরেকটা ঝপ!
না নাভিদ বা হাকিম মাঝি কেউ লাফ দেয় নাই।
বৈঠা ছেড়ে দিয়ে অসীম সাহসিকতার সাথে নিজের জীবন বিপন্ন করে কুমির কামোটের চিন্তা না করেই ফারুক লাফ দিয়ে পড়েছে পানিতে। (চলবে)



