নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, রাসূল হজরত মুহাম্মদ সা:-এর জীবন ছিল অত্যন্ত সাজানো ও গোছানো। পাহাড়ের মাঝখানে রুক্ষ পরিবেশে বড় হলেও তাঁর হৃদয়টা ছিল মাহসাগরের মতো বিশাল। মানুষের পরকালীন মুক্তির জন্য তিনি নবুয়তের ২৩ বছরই কাটিয়ে দিয়েছেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি চরম শত্রুকেও ক্ষমা করার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মক্কা বিজয়ের দিন চরম নির্যাতনকারী কুরাইশদেরও নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তিনি কড়া ভাষায় কথা বলতেন না, কাউকে কখনো অপমান করতেন না। সবসময় সমাজের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাদের অধিকার রক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে ঢাকা মহানগরী (দক্ষিণ) ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত সিরাত বিষয়ক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ডা: মারুফ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় সিরাত অনুষ্ঠানে ঢাকা শহরের শতাধিক চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন ।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, রুক্ষ পরিবেশের বাস করা অত্যন্ত কঠিন হৃদয়ের আরবদের মধ্যে আল্লাহ রাসূল সা:-কে পাঠিয়েছিলেন তাদের সতর্ক করার জন্য। তিনি ওই কঠিন হৃদয়ের মানুষদের মধ্যে কাজ করেছেন। আমরা এখন যে হীন কাজটিকে গুণাহ মনে করি আরবের সেই যুগের মানুষ এটাকেই স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নিয়ে জীবন-যাপন করেছেন। রাসূল সা: সেই মানুষদেরই হেদায়েতের পথে নিয়ে এসেছেন এবং পরে সেই রুক্ষ স্বভাবের মানুষগুলোই ইসলামের পথে এসে মানবতা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তখনকার যুগের সেই অশিক্ষিত মানুষগুলো কুরআনের আলোতে আলোকিত হয়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বর্তমান সভ্যতা সম্বন্ধে কথা বলতে গিয়ে বলেন, পশ্চিমারা ইসলামকে নামাজ-রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে সেটাকেও তাদের জন্য নিরাপদ মনে করে কিংবা মিলিট্যান্ট ইসলামকেও তাদের জন্য বিপদ হিসেবে দেখে না। কিন্তু সেই ইসলামকেই পশ্চিমারা ভয় পায় যেটা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে কুরআন ও হাদিসের আলোকে সাজাতে চায়, রাষ্ট্রের অর্থনীতি ইসলামের আলোকে ঢেলে সাজাতে চায়। যারা এটা করতে চায় তাদেরই পশ্চিমারা ভয় পায়, তাদের পছন্দও করে না। আমাদেরকে রাসূল সা: এর দেখানো পথে কুরআন বুঝতে হবে এবং সেই পথেই রাষ্ট্র সাজাতে হবে। এটা করতে পারলেই মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তি আসবে।



