এবার দ্বিগুণেরও বেশি দামে এলএনজি কেনা হচ্ছে

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রতি এমএমবিটিইউ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরকার কিনেছিল সাড়ে ১০ ডলার করে। এখন সেই এমএমবিটিইউ এলএনজি কিনতেই ব্যয় করা হচ্ছে ২৪ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার। এই দরে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রতি এমএমবিটিইউ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরকার কিনেছিল সাড়ে ১০ ডলার করে। এখন সেই এমএমবিটিইউ এলএনজি কিনতেই ব্যয় করা হচ্ছে ২৪ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার। এই দরে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলারে এক কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়। অথচ গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ দশমিক ৫০ ডলারেরও কম দামে এলএনজি কিনেছিল সরকার। ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানে এলএনজির দাম বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী-পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫-এর উপবিধি ৩-এর দফা (ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় দুই কার্গো এলএনজি কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১৩ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত ৪৬তম কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন। এ কার্গোর জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ দশমিক ৬২৫ মার্কিন ডলার।

অন্য দিকে ২৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত ৪৭তম কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড, যুক্তরাজ্য। এ কার্গোর জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২৪ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার।

গত ১৯ আগস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলারে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩৯ কোটি ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

বুড়িমারী স্থলবন্দরে হ্যান্ডলিং ঠিকাদার নিয়োগ

এ দিকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বুড়িমারী স্থলবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং বা পণ্য ওঠানো-নামানোর ম্যানুয়াল কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশও করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ কাজের চুক্তিমূল্য ৪৬৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ টাকা।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বুড়িমারী স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং (ম্যানুয়াল) কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগে দরদাতা হিসেবে রয়েছে ড্রপ কমিউনিকেশন লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ৫১/৫১ এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা।

বুড়িমারী স্থলবন্দর দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। এ বন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঠিকাদার নিয়োগের ফলে বন্দরের পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম আরো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে জানা গেছে।

২৭০০ কোটি টাকার সার কেনা হচ্ছে

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২৬৯৫ কোটি টাকা দিয়ে ৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ইউরিয়া ৭০ হাজার মেট্রিক টন, এমওপি ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন, ডিএপি ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এবং টিএসপি ৬০ হাজার মেট্রিক টন।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সার কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগিনিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৮২০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম পড়বে ৩৮০ দশমিক ৮৩ মার্কিন ডলার।

রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন প্রোডিনটর্গের সাথে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় আমদানি করা হবে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার। এ জন্য ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৪৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭০০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার।

মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপসের সাথে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন করে দু’টি লটে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে। এর মধ্যে একটি লটে ব্যয় হবে ৪৪৩ কোটি ৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং অন্য লটে ব্যয় হবে ৪৪২ কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

একই প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির আওতায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে আরো দুটি লটে ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে। এর মধ্যে একটি লটে ব্যয় হবে ২৫২ কোটি ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৬৭৮ মার্কিন ডলার। অন্য লটে ব্যয় হবে ২৪৮ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৬৬৮ মার্কিন ডলার।

এ ছাড়া কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের সাথে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় দু’টি লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন করে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। একটি লটের ক্রয়মূল্য ১৯০ কোটি ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা এবং অন্য লটের ক্রয়মূল্য ১৮৯ কোটি ৮২ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা ধরা হয়েছে। উভয় লটেই প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সৌদি আরবের মাদেন এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪৪০ কোটি ৩৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৮৯১ মার্কিন ডলার।

বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড বা কাফকোর কাছ থেকে দ্বিতীয় লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১৩৩ কোটি ৫৭ লাখ ২২ হাজার ২৫০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৩৫৯ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে এফওবি মূল্য ৩৫৪ দশমিক ৫০ ডলার এবং ব্যাগিং চার্জ ৫ ডলার।