চুয়াডাঙ্গা-১ আসন

একমঞ্চে জনগণের মুখোমুখি সব প্রার্থী

ভোটের রাজনীতির চিরাচরিত ধারা ভেঙে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একমঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি জনগণের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। দুর্নীতিমুক্ত শাসন, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির অঙ্গীকারে তারা স্বাক্ষর করেছেন একটি লিখিত প্রতিশ্রুতিনামায়।

Printed Edition
এক মঞ্চে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা
এক মঞ্চে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

ভোটের রাজনীতির চিরাচরিত ধারা ভেঙে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একমঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি জনগণের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। দুর্নীতিমুক্ত শাসন, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির অঙ্গীকারে তারা স্বাক্ষর করেছেন একটি লিখিত প্রতিশ্রুতিনামায়। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসংলগ্ন মুক্ত মঞ্চে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন) চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক এই সংলাপ।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের তিন প্রার্থী একসাথে অংশ নেন। তারা শুধু নিজ নিজ ইশতেহারই তুলে ধরেননি, বরং দুর্নীতিমুক্ত ও জনকল্যাণমুখী আগামীর চুয়াডাঙ্গা গড়তে ১৫ দফার কঠোর অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।

সুজন চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম। আরো উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: কামরুজ্জামান, প্রবীণ সাংবাদিক আজাদ মালিতা, সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজসহ জেলার বিশিষ্টজনরা। শীতের সকাল উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকা থেকে চার শতাধিক ভোটার এতে অংশ নিয়ে প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রত্যাশা ও স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

সংলাপে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজি একই মঞ্চে বসে দীর্ঘ সময় ভোটারদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

বিএনপি প্রার্থী মো: শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, নির্বাচিত হলে চুয়াডাঙ্গাকে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক ও নিরাপদ জনপদে রূপান্তর করা হবে। শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংসদে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি। পাশাপাশি প্রতি বছর ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আইনসভার মর্যাদা রক্ষা, প্রশাসনের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা তার প্রধান অগ্রাধিকার। টেন্ডারবাজি ও নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আজিজি বলেন, ক্ষমতার রাজনীতি নয়, নৈতিকতা ও জনসেবাই তাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, দখলদারিত্ব ও টেন্ডারবাজিমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। বিজয়ী হোন বা না হোন, সবসময় জনগণের পাশে থাকারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ১৫ দফার লিখিত অঙ্গীকারনামা। এতে প্রার্থীরা ঘোষণা দেন, বিজয়ী হলে তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদের হিসাব নিয়মিত জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন, সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে মনোযোগী থাকবেন এবং স্থানীয় সরকারের কাজে বিধিবহির্ভূত হস্তক্ষেপ করবেন না। সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতিও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

সংলাপের একপর্যায়ে তিন প্রার্থীই এক সুরে বলেন, জনগণের রায় যাই হোক, তা মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীর সাথে এলাকার উন্নয়নে সবাই সহযোগিতা করবেন। সুজন নেতৃবৃন্দ মনে করেন, চুয়াডাঙ্গার এই ব্যতিক্রমী সংলাপ গণতান্ত্রিক চর্চায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।