যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে শাশুড়িকে ফোন উদ্ধার করল পুলিশ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করে বিনা চিকিৎসায় ঘরে আটকে রেখে খবর দেয়া হয় বিধবা শাশুড়িকে। যাতে মেয়েকে বাঁচাতে বরাবরের মতো জমিজমা বিক্রি করে পাষণ্ড জামাইয়ের হাতে টাকা তুলে দেন। তবে এবার তিনি আর সেটা করেননি। থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে উদ্ধার করেছেন বন্দী ওই গৃহবধূকে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ডগাইর এলাকার পশ্চিম মোমেনবাগে।

আহত গৃহবধূর মা বিউটি আক্তার জানান, ২০১৯ সালে ডগাইর আড়াবাড়ি মসজিদ গলির রোড-১ বাড়ি ৭ এর মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মো: মাহবুবুল আলম টিটুর সাথে বিয়ে হয় তার ছোট মেয়ে শামসুন্নাহার হীরার। টিটু পদ্মা ব্যাংকে চাকরি করেন। বিয়ের পর থেকে টিটু ও তার পরিবারের আসল রূপ বেরিয়ে আসে। তারা হীরাকে বউ হিসেবে বাসায় তোলেনি। বাবাহারা গরিবের মেয়েকে কাজের মেয়ে হিসেবে নিয়েছে। টিটুর বাবার করে যাওয়া তিনতলা ওই বাড়িতে তার মা-বোন-বড়ভাইসহ পরিবারের সবাই বসবাস করে। আর তাদের সবার কাজের লোক হীরা। কথায় কথায় মারধর, গরীবের বাচ্চাসহ নানা ধরনের গালি-গালাজ ছিলো হীরার নিত্যসঙ্গী। এর মঝেই তাদের সংসারে আসে দুই সন্তান। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর পদ্মা ব্যাংকের অবস্থা খারাপ বলে ব্যবসার জন্য স্ত্রী হীরাকে তার মায়ের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আনতে চাপ দিতে থাকে টিটু। বাধ্য হয়ে মা বিউটি মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া জমি বিক্রি ও বড় জামাতার কাছ থেকে ধার করে কয়েক ধাপে ১১ লাখ টাকা তুলে দেন টিটুর হাতে; কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। সর্বশেষ আরো পাঁচ লাখ টাকার জন্য মারধর করতে থাকে হীরাকে।

গত ১৪ মেরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই পাঁচ লাখ টাকার জন্য বেধড়ক মারধর করে হীরাকে। তার শরীরের একাধিক স্থানে ফেটে রক্ত ঝরতে থাকে। এই অবস্থায় তার চিকিৎসা না করিয়ে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে। এরপর মা বিউটিকে খবর দেয়া হয়। পরে বিউটি আক্তার টাকা ছাড়াই মেয়েকে উদ্ধার করতে গেলে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয় টিটু। বাধ্য হয়ে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় অভিযোগ করে পুলিশের সহযাগিতায় মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বিউটি অভিযোগ করেন, টাকার জন্য মেয়ে ও নাতি-নাতনিকে যেকোনো সময় হত্যা করতে পারে টিটু ও তার পরিবার। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কমনা করেছেন। পুলিশ বলছে, অভিযোগ পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার হয়েছে। তবে স্বামী পলাতক থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। মামলা করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে জানতে টিটুর দু’টি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।