নিউ ইয়র্ক পোস্ট
কোভিড-১৯ মহামারীর উৎস ও নেপথ্যের কারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান বিতর্কে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহলের একটি চাঞ্চল্যকর দাবি। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু গোপন নথির ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, চীনের উহান ল্যাবে পরিচালিত চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস গবেষণায় অর্থায়নের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউচি।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের (ডিএনআই) বিদায়ী পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড তার পদ ছাড়ার ঠিক আগে এই চাঞ্চল্যকর নথিগুলো প্রকাশ করেন। তার কার্যালয়ের দাবি, এতদিন ধরে কঠোর গোপনীয়তায় আড়ালে থাকা এই নথিগুলো কোভিড-১৯-এর প্রকৃত উৎপত্তি এবং তা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রকাশিত নথির তথ্যানুযায়ী, চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে বাদুড় থেকে পাওয়া করোনাভাইরাস নিয়ে ‘গেইন-অব-ফাংশন’ নামের একটি উচ্চ ঝুঁকির গবেষণায় মার্কিন তহবিল ব্যবহৃত হয়েছিল, যার সাথে ফাউচির সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তাই নয়, মহামারীর শুরুর দিকে ভাইরাসের উৎস সন্ধান সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর স্বাধীন অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি অপচেষ্টাও চালানো হয়েছিল। ওই সময়ে অ্যান্থনি ফাউচি ভাইরাসের প্রাকৃতিক বা প্রাণিজ উৎস তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করতে গোয়েন্দাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন বলেও নথিতে দাবি করা হয়েছে। এমনকি এই স্পর্শকাতর গবেষণার বিষয়টি আড়াল করতে তিনি সচেতনভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিলেন বলেও অভিযোগ তুলেছে গ্যাবার্ডের কার্যালয়।
এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়, কোভিড-১৯ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তদন্তকে বিভ্রান্ত করা এবং ভুল পথে পরিচালিত করার পেছনে ফাউচির প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। অথচ ২০২৪ সালে মার্কিন কংগ্রেসে দেয়া আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যে তিনি এই ভাইরাস গবেষণায় নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু নতুন করে ফাঁস হওয়া নথির বরাতে বলা হচ্ছে, বাস্তবে ফাউচি এই সংক্রান্ত বিষয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক ও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।
অথচ কংগ্রেসের শুনানিতে শপথ নিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, ভাইরাস গবেষণা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার সাথে তার কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। উল্লেখ্য, অ্যান্থনি ফাউচি দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের (এনআইএআইডি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন। কোভিড মহামারীর চরম সঙ্কটকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম মুখ্য বৈজ্ঞানিক পরামর্শক ছিলেন।
বিদায়ী গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বজুড়ে বিপুল মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এতদিন ধরে সুপরিকল্পিত তথ্য গোপন ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর পর এখন জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করে প্রকৃত তথ্য আড়াল করা হয়েছে এবং এর কঠোর জবাবদিহি হওয়া উচিত। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের এই নতুন অভিযোগগুলো কোভিডের উৎপত্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিকে আবারো বড় ধরনের বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়েছে।



