আতিকুর রহমান ঝালকাঠি
আষাঢ়ের শেষ দিকে নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধিতে ঝালকাঠির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দেড় থেকে দুই ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে কৃষিজমি, আমনের বীজতলা ও গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ। এতে কৃষক, দিনমজুর ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের।
রোববার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পানি বেড়ে অনেক স্থানে বেড়িবাঁধের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি ও চলাচলের সড়ক প্লাবিত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে আমন ধানের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিষখালী নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষক লিটন হাওলাদার বলেন, কষ্ট করে তৈরি করা বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েক দিনে পানি না নামলে পুরো বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দিনমজুর হেমায়েত হোসেন বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মাঠে কাজ বন্ধ থাকায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। ঝালকাঠি সদরের চরভাটারাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান রিপন জানান, গ্রামের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
এ দিকে বিষখালী নদীতীরবর্তী চরভাটারকান্দা এলাকায় নতুন করে নদীভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু এলাকায় ব্লক ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করা হলেও বেশ কয়েকটি স্থানে তীব্র স্রোতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তারা দ্রুত টেকসই নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কিছু এলাকায় আমনের বীজতলার ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আবার বীজতলা তৈরিতে সহায়তা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।



