বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
একই সাথে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং কর্মে, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার নির্দেশনা প্রদান করেন।
গতকাল রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্রবাহিনীর দরবারে তিনি এ নির্দেশনা দেন। দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্রবাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়। সশস্ত্রবাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্রবাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই আমাদের প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্র দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ ধরে তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে উঠেছিল, তা অব্যাহত রাখা জরুরি। একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্রবাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।
এ ছাড়া তিনি জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিএনপি সরকারের সময়েই এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে আরো উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
তিনি বলেন, কেবল যুদ্ধকালীন প্রয়োজনেই একটি অবশ্যম্ভাবী শক্তি নয়; বরং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকা বিশ্ব স্বীকৃত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন এক সশস্ত্রবাহিনী চাই যাদেরকে বহিঃশক্তি সমীহ করবে আর দেশের জনগণ আস্থায় রাখবে। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস না করে সশস্ত্রবাহিনীকে সবসময় একটি সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।
আরো জানা যায়, দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।
বিশেষত, গত ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে এখন পযর্ন্ত দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সশস্ত্রবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্রবাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরো কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত দুই এমপির শপথ গ্রহণ
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে শেরপুর ও বগুড়ার দুই আসনের নবনির্বাচিত দুই এমপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
রোববার বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের পঞ্চম তলায় স্পিকারের কক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নবনির্বাচিত শেরপুর-৩ আসনের মো: মাহমুদুল হক রুবেল এবং বগুড়া-৬ আসনের রেজাউল করিম বাদশাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। স্পিকারের কাছে শপথ নেয়ার পর দুই সংসদ সদস্য রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর এবং স্পিকারের সাথে করমর্দন করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থী ইন্তেকাল করায় নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
এছাড়া ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। গত ৯ এপ্রিল স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন হয়। গতকাল বিজয়ী দুই সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।



