বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। প্রতিনিধিদলটি বন্দরে পৌঁছালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান তাদের স্বাগত জানান এবং এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
সাক্ষাৎকালে বন্দর চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূতকে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো অবহিত করেন। তিনি জানান, বিগত সময়ের নানা অনিয়ম, শ্রম অসন্তোষ, বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর আধিপত্য এবং ডিজিটাইজেশনে বাধার মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে বন্দরে যুগোপযোগী সংস্কার করা হয়েছে।
এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড সৃষ্টি, জাহাজের অবস্থানকাল (টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম) ও পণ্যের অবস্থানকাল (ডুয়েল টাইম) হ্রাস, পোর্ট লিমিট বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন কোস্টগার্ড কর্তৃক আইএসপিএস পরিদর্শনে ‘জিরো অবজারভেশন’ বা কোনো ত্রুটি না পাওয়া বন্দরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় স্বীকৃতি।
চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান প্রতিনিধিদলকে জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম নৌ-বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হবে। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। আমদানিকৃত পণ্য সংরক্ষণে বন্দরে ‘কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি’ বা শীতলীকরণ ব্যবস্থা স্থাপনে মার্কিন সরকারের আগ্রহকে তিনি স্বাগত জানান। বর্তমানে শ্রমিক সংগঠনগুলোর ইতিবাচক ভূমিকার কারণে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম নির্বিঘেœ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বন্দরকে আরো দক্ষ, আধুনিক ও বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তুলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত ও প্রশিক্ষণসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশে বন্দরকেন্দ্রিক বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে তার দেশ পাশে থাকবে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রফতানিকৃত পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক ইউনিট প্রধান মাইকেল প্যানেল, বাণিজ্যিক কাউন্সিলর পল ফ্রস্ট, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ এবং অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ আসিফ আহমেদ। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) মো: ওমর ফারুক এবং সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি।



