এম জে এইচ জামিল সিলেট
নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। দীর্ঘ জটিলতা কাটিয়ে গত ১৫ জুন পরিচালনার চূড়ান্ত অনুমোদনও মিলেছে। কিন্তু তবুও চালু হয়নি সিলেটের বহুল আলোচিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত জেলা হাসপাতাল। এবার হাসপাতালটি পরিদর্শন করে আগামী তিন মাসের মধ্যে চালুর নতুন সময়সীমা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ফার্নিচার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালুর লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কট মোকাবেলায় আগামী তিন মাসের মধ্যে সাত হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চিকিৎসক-নার্সদের নিরাপত্তায় হাসপাতালগুলোতে পুলিশ ক্যাম্প বাড়ানোর পাশাপাশি আনসার ক্যাম্প স্থাপনেরও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
তবে অতীতের একাধিক আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় হাসপাতালটি চালুর নতুন সময়সীমা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। গত ১৫ জুন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ জটিলতার পর হাসপাতালটি পরিচালনার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিমেবি) তত্ত্বাবধানে দ্রুত হাসপাতাল চালু, জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি কেনার কথা বলা হয়েছিল। এর আগে বিগত ২০ এপ্রিল হাসপাতাল পরিদর্শন এবং ৩১ মে এক অনুষ্ঠানে দ্রুত চালুর আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৫ জুনের অনুমোদনের প্রায় তিন মাস পরও হাসপাতালটি চালু হয়নি। এখন আবার নতুন করে তিন মাসের সময়সীমা দেয়া হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর চৌহাট্টাসংলগ্ন আলিয়া মাদরাসা মাঠ এলাকায় নির্মিত হাসপাতালটির অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালে। ৬ দশমিক ৯৮ একর জায়গার ওপর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
ভবন নির্মাণ শেষ হলেও হাসপাতালটি কে পরিচালনা করবে- সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্বাস্থ্য অধিদফতর, নাকি সিভিল সার্জন কার্যালয়- এ নিয়ে দীর্ঘদিন জটিলতা চলে। জনবল, লজিস্টিক সাপোর্ট ও তদারকি নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোগত প্রস্তুতি থাকলেও শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা।
গত ১৫ জুন সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হাসপাতালটি পরিচালনার অনুমোদন পাওয়ার পর জটিলতার অবসানের আশা তৈরি হয়। কিন্তু এর পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এবার ঘোষিত তিন মাসের সময়সীমা কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ দিকে সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শক নিয়োগের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের পর অবকাঠামোগত কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া এবং প্রয়োজনীয় পদ সৃজন শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে জনবল নিয়োগ করা হবে।
সিলেটে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শিগগিরই একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল এবং ৪৫০ শয্যার অসম্পূর্ণ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট চালুর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন।
প্রায় তিন বছর ধরে অব্যবহৃত হাসপাতালটিতে রয়েছে বহির্বিভাগ, ডায়াগনস্টিক, কার্ডিয়াক ও জেনারেল ওটি, আইসিসিইউ, সিসিইউ, বিভিন্ন বিভাগের ওয়ার্ড ও কেবিন। রয়েছে ১৯টি আইসিইউ, ৯টি সিসিইউ বেড ও ৪০টি কেবিন।
বিপুল সরকারি অর্থে নির্মিত হাসপাতালটি কবে রোগীদের জন্য খুলবে- এখন সেটিই সিলেটবাসীর অপেক্ষা। অতীতের প্রতিশ্রুতির পর এবার ঘোষিত তিন মাসের সময়সীমা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সে দিকেই নজর তাদের।



