সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা
বহিষ্কার সত্ত্বেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘রাজনীতিতে আপস না করে একা দাঁড়িয়ে যাওয়ার শিক্ষা আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকেই শিখেছি। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনেই এমন বহিষ্কার আদেশ পাওয়া আমার রাজনৈতিক জীবনে এক অদ্ভুত ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। যার আদর্শে রাজনীতি করেছি এবং যার আশ্রয়-প্রশ্রয় ও স্নেহে আমি এত দূর এসেছি, তার চলে যাওয়ার দিনই কেন আমাকে বহিষ্কার করা হলো, এটা এক ধরনের কাকতালীয় ব্যাপার।’
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি আমার রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়েছি, যার আদর্শে রাজনীতি করেছি, উজ্জীবিত হয়েছি এবং যার আদর্শ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আমি রাজনীতি করেছি, তিনি আজ চলে গেলেন। তার এ চলে যাওয়ায় দেশ ও দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ নভেম্বর। এর আগে ২০ নভেম্বর আমার কথা বলে গেছেন। উনি বলেছেন, আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলো না কেন? আমি শুধু এইটুকুই বলব।’
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ জনকে বহিষ্কার করে বিএনপি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ২৯ ডিসেম্বর ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজে উপস্থিত থেকে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের বোঝার বাইরে। ১৯৭৩ সালে আমার বাবা ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ আওয়ামী লীগের জোয়ারের বিপক্ষে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছিলেন। আজ ধানের শীষের জোয়ারের বিপক্ষে আমাকেও স্বতন্ত্র লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে এ আসনে নির্বাচন করছেন।



