বিবিসি
তাইওয়ানের চার পাশে আবারো ব্যাপক সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটির বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ও তাদের সমর্থকদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিতেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার ভোরে চীনের ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে মহড়ার ঘোষণা দেয়।
চীনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই মহড়ায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং রকেট ফোর্স একযোগে অংশ নিচ্ছে। ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামের এই অভিযানে তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো অবরুদ্ধ করা এবং সেগুলো দখলের অনুশীলন চালানো হচ্ছে। চীনা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবোতে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, যারা স্বাধীনতার চক্রান্ত করছে, তারা এই ‘বিচারের ঢালে’র সামনে ধ্বংস হয়ে যাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ ঘোষণার পরই চীন এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। বেইজিং এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইতোমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
চীনের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই তাইওয়ান প্রণালীতে চীনা যুদ্ধজাহাজ ও বিমানের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর জবাবে তাইওয়ানও তাদের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং সেনাবাহিনীকে ‘হাই অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাইওয়ান স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে শান্তি নির্ভর করে ‘প্রকৃত শক্তির’ ওপর। তিনি আরো যোগ করেন, তাইওয়ানকে নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে বেইজিং আক্রমণ করার সাহস না পায়। যদিও বেইজিং দীর্ঘকাল ধরে শান্তিপূর্ণ পুনঃএকত্রীকরণের কথা বলে আসছে, তবে তাদের আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, প্রয়োজনে তারা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে। অন্য দিকে জনমত জরিপ অনুযায়ী তাইওয়ানের অধিকাংশ নাগরিক বর্তমান ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার পক্ষেই মত দিয়েছেন।



