উজিরপুরে শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা

Printed Edition
উজিরপুরে শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা
উজিরপুরে শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা

লাল, সাদা ও নীল শাপলায় ছেয়ে গেছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা-হারতার বিস্তীর্ণ বিল। বর্ষার শুরুতে পানির ওপর ফুটে থাকা অসংখ্য শাপলা যেন বিলজুড়ে তৈরি করেছে অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য। ভোরের আলো ফুটতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় জমছে এখানে। ছোট নৌকায় চড়ে বিলের বুক ঘুরে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন তারা। তবে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে আনন্দের পাশাপাশি দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের।

গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, সূর্য ওঠার আগে থেকেই সাতলার শাপলার বিলে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সাথে আবার কেউ নিতান্তই একা একা নৌকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিলের বিভিন্ন অংশে। নৌকার দুই পাশে পানির ওপর ফুটে থাকা লাল, সাদা ও নীল শাপলার সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে সবাইকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যাও।

বরিশাল শহর থেকে সড়কপথে প্রায় ৬০-৬৭ কিলোমিটার দূরে সাতলার বিল। বর্ষা মৌসুমে এটি প্রকৃতির অনন্য রূপ ধারণ করে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিলজুড়ে ফুটে ওঠে শাপলা। প্রাকৃতিক এ সৌন্দর্য দেখতে প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে শাপলাগুলো পূর্ণ প্রস্ফুটিত থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে অনেক ফুল পাপড়ি বন্ধ করে মুখ লুকিয়ে রাখে। এ কারণে ভোরেই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে সাতলার বিস্তীর্ণ বিল ভরে যায় শাপলায়। এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি।

তবে পর্যটকদের অনেকে অভিযোগ করেন নৌকার ভাড়া নিয়ে। দর্শনার্থীদের দাবি, এক ঘণ্টার জন্য একটি নৌকা ভাড়া নিতে চাইলে হাঁকা হয় দুই হাজার টাকা। এত ভাড়া কেন হবে, কোন যুক্তিতে? পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা অনেকেই বাড়তি খরচের কারণে বিপাকে পড়েন। তারা নৌকা ভাড়ার একটি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক হার নির্ধারণের দাবি জানান।

শাপলার সৌন্দর্য দেখতে আসা ব্যবসায়ী মিঠু হাওলাদার বলেন, লাল, নীল ও সাদা শাপলায় পুরো এলাকা নয়নাভিরাম হয়ে ওঠে। কিন্তু এক ঘণ্টার জন্য দুই হাজার টাকা নৌকা ভাড়া নিয়ে সেই আনন্দই যেন ম্লান হয়ে যায়।

দর্শনার্থী দুলাল মৃধা বলেন, বরিশালে এত সুন্দর শাপলার বিল রয়েছে, এখানে না এলে তা বুঝতে পারতাম না। নৌকা ভাড়া কমানো হলে আরো বেশি মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। আরো বেশি পর্যটক আসবে।

পরিবার নিয়ে আসা আনিকা ইসলাম বলেন, চারদিকে শাপলা আর শান্ত পরিবেশ- সব মিলিয়ে অসাধারণ এক সৌন্দর্য। কিন্তু পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নেই। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি থাকা উচিত। তিনি বলেন, শুধু নৌকা ভাড়াই নয়- নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়েও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। পর্যাপ্ত টয়লেট কিংবা ওয়াশরুম নেই। খাবারের দোকান নেই। পরিবার নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেকেই রাত্রি যাপনে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী সুজা বলেন, সাতলা-হারতার বিল পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ বিলকে আরো আকর্ষণীয় ও পর্যটনবান্ধব করতে সাতলা লাল শাপলা পর্যটনকেন্দ্রে উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হয়েছে। নৌকা ভাড়া নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, শিগগিরই নৌকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হবে।

পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাতলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগাতে হলে শুধু সৌন্দর্যনির্ভর পর্যটন নয়, প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা। নৌকা ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ নৌযান, পর্যাপ্ত টয়লেট ও ওয়াশরুম, খাবার ও আবাসনের ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সাতলা দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্রামীণ পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।