সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর
রংপুর বিভাগে সারের বরাদ্দ ও সরবরাহে সঙ্কট নেই, তবে বিতরণব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে কৃষকের কাছে সার পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে, এমন অভিমত উঠে এসেছে বিভাগীয় সার ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের মতবিনিময় সভায়। সভায় কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে সার মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তুলে কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়।
গত রোববার রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব সেলিম খান। বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, র্যাব-১৩-এর অধিনায়ক, বিজিবি, আট জেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, সার ডিলার ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলাররা জানান, সারের সামগ্রিক সঙ্কট না থাকলেও মাঠপর্যায়ে সরবরাহ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে টিএসপি সারের বরাদ্দ কম বলে তারা জানান।
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, জেলার কিছু ডিলার ও ঠিকাদার আগের সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের কেউ পলাতক থাকলেও অন্যরা তাদের পক্ষে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী সারের ঘাটতি নেই। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা ঘাটতির কথা বলছেন। এ বৈপরীত্য দূর করতে জেলা ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনভিত্তিক সঠিক ডাটাবেজ তৈরির পরামর্শ দেন।
সভায় সারের মজুদ, সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা নিয়মিত তদারকি এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।



