সাক্ষাৎকার : ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ

এখন মূল লক্ষ্য প্রকৃত ‘রাষ্ট্র’ গড়ে তোলা

লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রকে একটি প্রকৃত ‘রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলা। ফ্যাসিবাদী আমলের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে টেনে তুলতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রাষ্ট্রকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলো ও সুশীলসমাজ কেবল নির্বাচন বা আন্দোলনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে একত্র হয়ে ১৫টি সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করেছে এবং গণভোটে জনগণ তা সমর্থন করেছে।

রাশিদুল ইসলাম
Printed Edition

নির্বাচিত সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্যেও সংবিধান সংস্কার ও সংশোধন বিতর্ক ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক ঘূর্ণিপাকে পরিণত হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের পর সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর শলাপরামর্শকে গণভোটে দেয়া জনগণের অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট রায় বাস্তবায়নের অপেক্ষা এখন। কিন্তু সেই বাস্তবায়নের ধরন নিয়ে রাজনৈতিক পার্থক্যের কালোমেঘ দেখা যাচ্ছে। সংসদে জনগণের অভিপ্রায় বাস্তবায়ন না হলে ফের রাজপথ? এরই মধ্যে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির পর এ মুহূর্তে লড়াইটা কিসের?

এ প্রশ্ন তুলেছিলাম আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ফুয়াদের কাছে। এমআরটির এক কর্মশালায় দিন কয়েক আগে তিনি যোগ দিতে আসেন দৈনিক নয়া দিগন্ত কার্যালয়ে। কথা হয়, রাজনৈতিক ইতিহাস, রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জুলাই-উত্তর ফ্যাসিবাদের অপচেষ্টার বিপরীতে সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে। এক সময়ে বাম ধারার আন্দোলনের তুখোড় কর্মী ব্যারিস্টার ফুয়াদ মনে করেন জমিদারদের উচ্ছেদ ও কৃষকদের জমির মালিকানা প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে বাম আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতার যবনিকাপাত ঘটেছে। তার কথোপকথন থেকে সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো :

নয়া দিগন্ত : এখন লড়াইটা কিসের?

ফুয়াদ : লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রকে একটি প্রকৃত ‘রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলা। ফ্যাসিবাদী আমলের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে টেনে তুলতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রাষ্ট্রকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলো ও সুশীলসমাজ কেবল নির্বাচন বা আন্দোলনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র গঠনের উদ্দেশ্যে একত্র হয়ে ১৫টি সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করেছে এবং গণভোটে জনগণ তা সমর্থন করেছে।

নয়া দিগন্ত : ইউনূস সরকারের সমালোচনাও তো আছে?

ফুয়াদ : জুলাই অভ্যুত্থানকে ছোট করা এবং অধ্যাপক ইউনূসের সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের একটি সুপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা বা বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদকে আড়াল করতে বর্তমানের ১৮ মাসকে ‘গোল্লায় যাওয়া’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে। আবার বিরোধী দলগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রবিনির্মাণের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। তাদের রাজনীতি মূলত মতাদর্শিক, যা রাষ্ট্র গঠনের আধুনিক লড়াইয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দুঃখজনক হচ্ছে এই বয়ানটা যারা পরাজিত হয়েছে তারা ছাড়াও বিএনপির লোকজন বলছেন, বিএনপির এমপি মন্ত্রীরা বলছে এবং এমনভাবে কথাগুলো আসছে যে মনে হয় ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা ছিল ইউনুস সরকার, জামায়াত এনসিপির বিরুদ্ধে মানে তর্কটা এমন যে ১৭ বছরে হ্যাঁ কিছু ভুলত্রুটি আমাদের হয়েছে কিন্তু ১৮ মাসে তো দেশটা একেবারে গোল্লায় গেছে। জুলাইটা ছিল একটা আকাক্সক্ষার লড়াই, বড় সফলতা হচ্ছে গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো একত্র হয়ে শলাপরামর্শ করে রাষ্ট্রের শত্রুদের সিরিয়াস ম্যাসেজ দিয়েছে তারা কেমন দেশ চায়। আওয়ামী লীগকে প্রাসঙ্গিক করতে ইউনূস সরকারকে ছোট করতে, জুলাইকে আন্ডার এস্টিমেট করতে পারবেন তখনই যখন জাস্টিফিকেশন তৈরি হবে আগেই তো ভালোছিলাম।

নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাহলে কাদের ওপর নির্ভর করছে?

ফুয়াদ : বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণদের ওপর। তরুণ প্রজন্ম যদি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করে এবং যথাযথ সামরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রশিক্ষণ পায়, তবেই একটি সার্বভৌম ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

নয়া দিগন্ত : সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকা কেমন?

ফুয়াদ : সংসদ সদস্যদের অনেকেরই আইন প্রণয়ন বা বাজেট বিষয়ক প্রাথমিক ধারণা ও যোগ্যতার অভাব বা ক্যাপাসিটি সঙ্কট রয়েছে। রাষ্ট্রবিনির্মাণের যে লড়াই এই জায়গা থেকে উনারা আসলে কখনো রাজনীতি করেন নাই। মতাদর্শিক রাজনীতি আর রাষ্ট্রবিনির্মাণের লড়াইয়ের ফান্ডামেন্টালি ডিফারেন্স অনেকেই ধরতে পারছেন না।

নয়া দিগন্ত : এই পরিস্থিতি ওভারকাম করা যায় কিভাবে?

ফুয়াদ : ৯১ থেকে ৯৬, ২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি জামায়াত কিন্তু একসাথে সংসার করছে। সংসার ভাঙার খেসারত কিভাবে জাতিকে দিতে হয় এটা দুই দলই সাফিশিয়েন্টলি বোঝার কথা। এবং আমার মনে হয় তারেক রহমান পার্টিকুলারলি এ বিষয়ে কনসাস। বিরোধীদলীয় নেতাও কনশাস। বিরোধী দলের কাছে জাতির প্রত্যাশা আরেকটু টাফ হওয়া, আরেকটু সিরিয়াসলি জবাবদিহিতা করা। দিল্লির আধিপত্যবাদ এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে রোখার জন্য বিরোধী দলকে এই ন্যাচারে থেকে তার সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করতে হবে ইকুয়ালি। এমন কোনো আন্দোলন সংগ্রাম কর্মসূচিতে যায়া যাবে না যেটা আওয়ামী লীগের ফিরে আসার রাস্তা তৈরি করে। বিশৃঙ্খলার সুযোগ তৈরি করে আওয়ামী লীগকে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আনার রাস্তা তৈরি করার সেই ভূমিকা আমরা দেখতে চাই না।

নয়া দিগন্ত : ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে ভারতের ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে উঠছে?

ফুয়াদ : আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন রোধে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি দোটানা কাজ করছে। তারা আওয়ামী লীগের ফেরার পথ প্রশস্ত হয় এমন কোনো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে সতর্ক রয়েছে। আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটা পরিষ্কার, ভারত কখনোই সরাসরি বাংলাদেশ দখল করবে না কারণ ২০ কোটি মুসলিম জনসংখ্যার ঝুঁকি তারা নিতে চায় না; বরং তারা এ দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চায়।

নয়া দিগন্ত : হাসিনা দেশে ফিরতে চাচ্ছেন

ফুয়াদ : হাসিনার জায়গা থেকে চিন্তা করেন। আপনি হাসিনার জুতোয় পা দিয়ে চোখ বন্ধ করে চিন্তা করেন তার মনের অবস্থাটা কি? তার নিরাপত্তা দরকার। ৭৫ এর আগস্ট মাসে বাংলাদেশে শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। তাকে সেই বাঙালি সেই আগস্ট মাসে লাত্থি মাইরা দেশ থেকে ভাগায় দিছে। কেউ মিছিল মিটিং করে নাই। যাদের পুষেছেন আমলাতন্ত্রে সামরিক বেসামরিক ব্যবসা-বাণিজ্য দিয়েছেন তারাও তার সাথে পালিয়ে গেছে। কেউ প্রতিবাদ করে নাই। অতএব, এরকম একটা জায়গায় তিনি বাঙালিরে শত্রু মনে করতেছেন। এ জন্য তিনি মোদিরে ইনভাইট করছিলেন অ্যাটাক করার জন্য। তো মোদি তো আসে নাই। মোদির তো ইচ্ছা নাই এখানে যুদ্ধ করার। তাকে এখানে মারামারি করতে গেলে তার সেভেন সিস্টারস আলাদা হয়ে যাবে। ’৭৫ সালে শেখ হাসিনা শেখ রেহানার হাতে তো কোনো রক্ত ছিল না। যা ভুল করেছে আওয়ামী লীগ করেছে শেখ মুজিব করেছেন। শেখ কামাল করেছেন। শেখ জামাল ব্যাংক ডাকাতি করেছেন। শেখ হাসিনা তো কিছু করেন নাই। তিনি তো বাকশাল কায়েমের জন্য দায়ী না। ৭৫ এ শেখ হাসিনা তো সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী করবার জন্য দায়ী না। ৩০-৩৫ হাজার জাসদের নেতাকর্মী হত্যার জন্য দায়ী না। সংবাদপত্র বন্ধ করে দেবার জন্য তিনি দায়ী না। তাহলে ৭৫ এ ফেরার ব্যাপারে তার ব্যাপারে আমাদের রিজারভেশন কি ছিল? তিনি আসবেন থাকবেন রাজনীতি করবেন। কিন্তু ২৪ এর হাসিনা কি রকম? ২৪ এর হাসিনা দেশে বিদেশে প্রমাণিত গণহত্যার নেতৃত্ব দিয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ যে রিপোর্ট দিয়েছে এই রিপোর্ট কি পৃথিবীর পশ্চিমের কোনো দেশ ইগনোর করে হাসিনার পাশে দাঁড়াইতে পারবে? পারবে না। যদি পারত তাকে ভারতে যেতে হতো না। তিনি অন্য দেশে চলে যেতেন।

নয়া দিগন্ত : বলার চেষ্টা হচ্ছে হাসিনা পালায়নি, একটা ব্যবস্থাপনায় ভারতে গেছেন?

ফুয়াদ : হাসিনার পদত্যাগপত্র পাওয়া যায়নি। ’৭২-এর সংবিধান পূজারীরা তর্কের ভেতরে গিয়ে বিপদে পড়ছে। আর্মি বলেন, মোদির ব্যবস্থাপনা বলেন এটা ২০২৩ সালে দেয়া লাগে নাই কেন? ২১ সালে দেয়া লাগে নাই কেন? ১৮তে দেয়া লাগল না কেন? এর মানে হইল রোগীর কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। লিভার ফেইল করছে। হার্ট পাম্প করতেছে না। ওপেন হার্ট সার্জারি করতে হবে। রক্ত দেয়া লাগবে। আইসিইউ মেশিনও দিল্লিতে। এগুলোর সম্পূর্ণর নাম গণ-অভ্যুত্থান। তো যেখানে আইসিইউ মেশিন সেখানে রোগী পাঠায় দেয়া হইছে।

নয়া দিগন্ত : চীনের সাথে করিডোর নিয়ে আপনার ভাবনা কি?

ফুয়াদ : আসিয়ানভুক্ত বাজারে আমাদের যেতে হবে। এতে ভারত সর্বধরনের বাঁধ দেবে, বাধা ডিঙ্গানোর প্রস্তুতিটা হবে রাষ্ট্রকে বাগান হিসেবে গড়ে তোলা। বাগান থেকে ভালো ফল চাইলে বেড়া দিতে হবে, যাতে পোকামাকড় না আসে, সাপ বিচ্ছু না ঢোকে, আপনার ফুলগাছ ফলগাছ খেয়ে না ফেলে। রাষ্ট্রকে পাহারা ও বাগানটা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই সহযোগিতার অভিমুখ তৈরি করে দিয়েছে বেইজিং, তুরস্ক, পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দিয়ে। আমাদের সমন্বয় বাড়াতে হবে। এখন ইরান যোগ হয়েছে এই লড়াইতে। দ্বিতীয়ত রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা ধ্বংসপ্রায় প্রতিষ্ঠান পুনরায় তৈরি করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতির অবস্থা একদম ভালো না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাজনীতি এবং রাষ্ট্রবিনির্মাণের একটা গল্প লাগে, একটা বয়ান লাগে এবং এই বয়ানটা সবাই মিলে তৈরি করার একটা সঙ্কট এখনো আছে। আশার কথা তরুণদের ইন্টেলেকচুয়ালি এম্পাওয়ার করে তাদের বলা যে, হ্যাঁ এই রাষ্ট্রের মালিক তুমি, তোমাদেরকে দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রের পাহারাদার হতে হবে। বরকান্দাজ হতে হবে। এই কাজটা বেগবান করতে হবে।

নয়া দিগন্ত : তরুণদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের কথা মাঝে মধ্যে শোনা যায়

ফুয়াদ : তরুণদের ক্ষমতায়নেও এটা প্রয়োজন। যুবকদের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এবং শারীরিকভাবে ক্ষমতায়ন করা, যাতে তারা বুঝতে পারে যে তারাই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। রাষ্ট্রকে বহিরাগত শত্রু ও আধিপত্যবাদ থেকে রক্ষা করতে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ১-২ কোটি তরুণকে সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যেতে পারে, যা তাদের শিক্ষাজীবন ও বিসিএস পরীক্ষায় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। একই সাথে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় কার্যকরসহ তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ক্ষমতায়ন করা যাতে তারা রাষ্ট্রের যোগ্য পাহারাদার হতে পারে। কারণ রাষ্ট্রকে একত্র রাখা এবং বাইরের হস্তক্ষেপ থেকে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে প্রশিক্ষণের পূর্বে তরুণদের কৌশলগত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ প্রয়োজন, যা নিশ্চিত করবে শুধুমাত্র তারাই প্রশিক্ষণ পাবে যারা রাষ্ট্রের চেতনাকে ধারণ করে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সমর্থন করে, বিশেষত জুলাই বিদ্রোহের সমর্থক যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠ্যক্রমভিত্তিক নম্বর পদ্ধতি ব্যবহার করে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণকে শিক্ষাক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কারণ যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ওন করে না তারা অস্ত্রের ট্রেনিং নিলে সিকিউরিটি থ্রেট তৈরি হতে পারে। সিলেকশন প্রসেসে দেখতে হবে কারা এই লড়াইয়ের জন্য প্রিপেয়ার।

নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশকে নিয়ে আপনি কেন আশাবাদী?

ফুয়াদ : কারণ বাংলাদেশ এতদিনে সিম্পলি হায়দ্রাবাদ সিককিম হয়ে যাওয়ার কথা। গত ৫০ বছরে যা যা ঘটেছে তাতে এই রাষ্ট্রের স্বাধীন থাকার যৌক্তিক কোনো কারণ নাই। এটা কাশ্মির হয়ে যাওয়ার কথা। সিম্পলি হয় নাই। এখানে মুসলমানের সংখ্যা বেশি। হিন্দুত্ববাদীরা বাংলাদেশের ২০ কোটি মুসলমানকে গ্রাস করতে গেলে ভারতের প্রায় ১০-১৫টা স্টেট মুসলিম মেজরিটি হয়ে যাবে। সেভেন সিস্টারস বলেন, বিহার, উড়িশা, আসাম যা আছে সব মুসলিম মেজরিটি হয়ে যাবে। ২০ কোটি মুসলমান এখানে বসে থাকবে না। তারা তো ছড়িয়ে পড়বে। তো সেই ঝুঁকি তো ভারত নিতে পারবে না। তাই ভারত কোনো দিন ফিজিক্যালি এই রাষ্ট্র নেবে না। তো অখণ্ড ভারত চাইলে কাঁটাতার দিয়েছে কারণ এ দেশের মানুষ নয় এখানকার রিসোর্স চায় ভারত। ভারতের যুদ্ধবিজয়ের ইতিহাস হচ্ছে বলিউডের সিনেমাতে। তারা আমেরিকা জয় করে ফেলছে, তারা কাশ্মির জয় করে ফেলে, তারা পাকিস্তান জয় করে ফেলে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে ফেলে, বাংলাদেশে অপারেশন করছে। যত তার যুদ্ধবিজয়ের গল্প সব হচ্ছে সিনেমাতে।