রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা

বিরোধীদলীয় নেতার সাথে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

Printed Edition
স্পেনের রাষ্ট্রদূত জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন : নয়া দিগন্ত
স্পেনের রাষ্ট্রদূত জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় বাজেট পাস, বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রত্যাশিত সংস্কার, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ নিয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।

বৈঠকে বাজেট বাস্তবায়ন এবং এর বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং এর সম্ভাব্য সমাধান ও চ্যালেঞ্জগুলো বৈঠকে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশের সাথে স্পেনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় স্পেনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। স্বাধীন ফিলিস্তিন ইস্যুতে সমর্থন অব্যাহত রাখার জন্যও তিনি স্পেন সরকারের প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রদূতও বাংলাদেশ ও স্পেনের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনাকালে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

নেতা হত্যার নিন্দা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, গত ২৫ জুন দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভেলুরচক গ্রামে বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যেভাবে রফিক আকন্দ ও তার পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়। নিজের বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে জামায়াত নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে সন্ত্রাসীরা। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধ মা জোসনা বেগমকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। দীর্ঘ দিন ঢাকার হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে ৪ জুলাই শনিবার রাতে সম্রাট হোসেন বাপ্পা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থানই অপরাধীদের রক্ষা করার ঢাল হতে পারে না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বা ভাড়াটে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে মানুষ হত্যা করে পার পাওয়ার দিন শেষ। ইতোমধ্যেই পুলিশ মূল অভিযুক্ত আব্দুল করিম আকন্দ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। আমরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই, তবে একই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত মামলার এজাহারভুক্ত নামধারী এবং অজ্ঞাতনামা সব ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে সেক্রেটারি জেনারেল মরহুম সম্রাট হোসেন বাপ্পার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি তিনি অবিলম্বে সব অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর তাগিদ দেন।