ডয়চে ভেলে ও আলজাজিরা
ইউক্রেনজুড়ে রুশ বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত সাতজনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপ। অন্য দিকে, রাশিয়ার সুমেরু অঞ্চলের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে সফল ড্রোন হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগের দায় স্বীকার করেছে কিয়েভ। একই সময়ে মলদোভা থেকে উড্ডয়নের সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বহনকারী বিমান ড্রোনের কারণে ঝুঁকিতে পড়েছিল বলে দাবি করেছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপরে তথ্য মতে, দেশের দণিাঞ্চলীয় মৈকোলাইভে রুশ সামরিক হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুমি শহরের একটি বিপণিবিতানে ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরো তিনজন। মৈকোলাইভ অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হেয়রহি রেশেতিলেভ বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে জানান, সেখানে বেসামরিক ও শিল্প অবকাঠামো ল্য করে চালানো হামলায় দুই পুরুষ ও দুই নারী নিহত হন এবং অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। সুমি আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেহ হ্রিহোরোভ জানান, সুমির শপিং সেন্টারে চালানো হামলায় তিনজন শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
রুশ প্রতিরা মন্ত্রণালয় মৈকোলাইভে আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করে দাবি করেছে, তারা সেখানে একটি ড্রোন গুদামকে ল্যবস্তু করেছিল। পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরের চর্নোমোরস্ক বন্দর এবং ওডেসার কাছে দু’টি নৌযানেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানানো হয়। কিয়েভের ব্যবহৃত এসব অবকাঠামো সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি মস্কোর। এর আগে ইউক্রেনীয় সীমান্ত থেকে প্রায় দুই হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরবর্তী ইয়ামাল-নেনেৎস অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে রুশ কর্তৃপ। ওই অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি আর্তিউখভ জানান, নভি উরেনগয় শহরের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রতিহত করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উরাল অঞ্চলে ক্রেমলিনের প্রতিনিধি আর্তেম ঝোগা জানান, এটি সুমেরু এলাকায় ঘটা প্রথম আক্রমণের ঘটনা।
ইউক্রেনের স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেস (এসওএফ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিন হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে নভি উরেনগয় ও পুরোভস্কি নামের দু’টি গ্যাস প্ল্যান্টে সফল আঘাত হানার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর পর এটিই রুশ ভূখণ্ডের সবচেয়ে গভীরে কিয়েভের সফল অভিযান। এই প্ল্যান্টগুলো ইয়ামাল অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ঘনীভূত গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এদিকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর সম্প্রতি জানিয়েছেন, মলদোভা থেকে উড্ডয়নের সময় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির বিমান ড্রোনের আঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছিল। মলদোভার সরকারি মুখপাত্রের বরাতে জানা যায়, ড্রোন সতর্কতার কারণে দেশটির আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল এবং একটি রুশ ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার পরই বিমানটি উড্ডয়ন করে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার একটি রুশ শাহেদ ড্রোন প্রায় এক ঘণ্টা মলদোভা ও রোমানিয়ার আকাশসীমায় ওড়ার পর মলদোভায় বিধ্বস্ত হয়। পরবর্তীতে অসলো পৌঁছে নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন জেলেনস্কি। তবে ইউক্রেনীয় একটি সূত্র এই ড্রোন হুমকিকে অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেছে। নভেম্বরের নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মাঝে রুশ ভূখণ্ডের গভীরে কিয়েভের ড্রোন হামলা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পূর্বে সতর্ক করেছিলেন যে, চলমান যুদ্ধে কিয়েভের ড্রোন প্রতিপরে আকাশসীমাকে অনিরাপদ করে তুলবে।



