নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের উপকূলে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বীমার আওতায় আনার বিকল্প নেই। আর এ বীমার প্রিমিয়ামের দায়িত্ব সরকারকে নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, সরকারের এই অর্থায়ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলগুলো থেকে আদায় করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তারা নানা অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও সেটি বাস্তবায়ন করছে না।
গতকাল খুলনা শহরের হোটেল ওয়েস্টার্ন ইন হোটেলে আয়োজিত বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দরিদ্রবান্ধব, জেন্ডার সংবেদনশীল এবং মানবাধিকার-ভিত্তিক সিডিআরএফআই প্রক্রিয়া বিষয়ক বিভাগীয় গোলটেবিল বৈঠকে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
উন্নয়ন সংগঠন অ্যাওসেড (এ্যান অর্গানাইজেশন ফর সোসিও ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট) এবং কেয়ার বাংলাদেশের সহায়তায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় অ্যাওসেডের নির্বাহী পরিচালক শামীম আরফীন বলেন, উন্নত বিশ্ব ১৯৯৫ সাল থেকে জলবায়ুর ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে নানা ধরনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আসছে। পাশাপাশি তারা কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত কার্বন নিঃসরণ না কমে বরং ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর তাদের প্রতিশ্রুত অর্থায়নগুলো ক্ষতিপূরণ হিসেবে না দিয়ে তারা নানা কৌশলে ঋণের বোঝায় ফেলছে বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে। তিনি বলেন, যে কারণে সরকারের উচিত হবে আগামীতে অনুষ্ঠিত জার্মানির বন জলবায়ু সম্মেলন ও তুরস্কের কপ ৩১ এ দর কষাকষির যথেষ্ট প্রস্তুতি নেয়া। যাতে উন্নত বিশ্বের শর্তসমূহ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ একটি সুবিধাজনক তহবিল আদায় করতে পারে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো নিজস্ব ফোরাম নেই, যেখানে জলবায়ু বিষয়ে কথা হয়। এমপি-মন্ত্রী হলে জনপ্রতিনিধিরাও জলবায়ুর মতো দায়িত্বশীল ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ভুলে যান। তিনি বলেন, আমি নিজে এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের পৌঁছাব।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী) বলেন, আমি জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনের দুর্দশা দেখেছি, এটি কিভাবে তাদের নিঃশেষ করে দেয়। ন্যূনতম হলেও আমাদের উচিত তাদের ফসল, পরিবার রক্ষা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দেয়া। তারা যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে।



