ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয়ে কমিশন গঠনের আবেদন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয়ে কমিশন গঠন, ২১ শে ফেব্রুয়ারির পাশাপাশি ৮ই ফাল্গুন উদযাপন এবং ২১ শে বইমেলাকে ফাল্গুনি বইমেলা নামকরণের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও কলামিস্ট তৈমূর আলম খন্দকার। গতকাল বুধবার তিনি এই আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিসত্তার জন্য একটি মাইল ফলক। তাই আন্দোলনে মোট কতজন শহীদ হয়েছেন তাদের নাম নির্ধারণের জন্য বাংলা একাডেমিকে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠন করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।

ভাষা আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি যা ইংরেজি দিনপঞ্জিকার অন্তর্ভুক্ত, তাই ইংরেজি তারিখের পাশাপাশি বাংলা দিনপঞ্জি মোতাবেক ৮ই ফাল্গুন জাতীয় মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি।

এ ছাড়াও বাঙালি জাতিসত্তার সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত হওয়ায় বিষয়টি জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হোক। নতুবা ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস প্রজন্মের নিকট অসম্পূর্ণ থাকাসহ সংগঠিত আন্দোলনের তারিখ উদযাপনে বাংলার চেয়ে ইংরেজি দিনপঞ্জিকে মূল্যায়িত করা অব্যাহত থাকবে; যা জাতি হিসেবে বাঙালির জন্য কাক্সিক্ষত নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে।

আবেদনে আরো বলা হয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদ হিসেবে সরকারিভাবে পাঁচজনের নাম আসলেও বিভিন্ন জায়গায় বেশি রয়েছে।

১৯৫২ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারি সৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন মোতাবেক মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলের ছাত্র সমাবেশে নির্বিচারে গুলিবর্ষণে বৃহস্পতিবারেই ৭ জন নিহত : ৩ শতাধিক আহত হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি গুলিতে ৯ জনের মৃত্যু ও বহু লাশ গুম করা হয়েছে।

তা ছাড়া ভারতের কলকাতা থেকে আনন্দবাজার পত্রিকায় ২৩ শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত শিরোনাম ছিল, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মোট নিহতের সংখ্যা ৯ জন।

২০০৮ সালে লাহোর থেকে প্রকাশিত পাকিস্তানের নির্বাসিত লেখক লাল খান তার পাকিস্তান আদার হিস্টোরিতে ১৯৬৮-৬৯ রেভুল্যুশন বইতে লিখেছেন, পুলিশের গুলিতে ২৬ জন নিহত এবং ৪০০ জনের মতো আহত হয়েছিল।