চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা কারাগারটি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে। পুরো এলাকাটি এখন ‘ভুতুড়ে বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত স্থানীয়দের কাছে। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় কারাগার ভবনটির দরজা-জানালা ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর সেখানে বখাটে ও নেশাখোরদের আড্ডা বসছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে কোনো ব্যবহার বা রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় কারাগার চত্বরটি এখন জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাত হলেই সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়ে যায়, যা আশপাশের মানুষদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালে সরকার উপজেলা পর্যায়ের আদালতগুলো জেলা শহরে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিলে সারা দেশের ২৫টি উপকারাগার প্রত্যাহার করা হয়। এরই অংশ হিসেবে চরভদ্রাসন উপজেলা কারাগারটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছরে উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে এক একর ১৫ শতাংশ জমির ওপর কারাগারটি নির্মাণ করা হয়। এতে একটি মূল কারাগার, একটি মহিলা কারাগার, একটি স্টাফ কোয়ার্টার ও একটি ব্যারাক হাউজ রয়েছে। ১৯৯০ সালের ১৬ আগস্ট সাবেক পাটমন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে কারাগারটির উদ্বোধন করেন। সে সময় উপজেলার হাজতি ও দাগি আসামিদের এখানেই রাখা হতো। ফলে জেলা কারাগারে যাতায়াতের ভোগান্তি ছিল না।
কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র এক বছরের মাথায় কারাগারটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কোনো সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ভবনটিতে সাপ-বিচ্ছুসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর বসবাস গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ দিন পরিত্যক্ত থাকায় এটি এখন বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কয়েক বছর আগে পরিত্যক্ত কারাগারটির স্থানে উপজেলা ফায়ার স্টেশন নির্মাণের দাবি জানিয়েছিলেন চরভদ্রাসনবাসী। তবে সেই দাবি বাস্তবায়ন না হয়ে ফায়ার স্টেশনটি উপজেলার অন্য স্থানে নির্মাণ করা হয়। ফলে কারাগারটি ব্যবহারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় এটি ধীরে ধীরে ভুতুড়ে বাড়িতে রূপ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস মোল্লা বলেন, আমার জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি কারাগারটি এভাবে পড়ে আছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে ভবনটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। রাতে এখানে খারাপ ও উচ্ছৃঙ্খল লোকজনের আনাগোনা হয়, যা আমাদের কাছে ভয়ের কারণ।
এ বিষয়ে কারাগারটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা চরভদ্রাসন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: জাহিদ তালুকদার বলেন, উপকারাগারটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সারা দেশে এ ধরনের মোট ২৫টি উপকারাগার রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং দু’টি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখানে যেন জুয়া বা মাদকসেবনের মতো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, পরিত্যক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার করে কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হোক। তা না হলে ভবিষ্যতে এটি চরভদ্রাসনের জন্য সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।



