নির্বাচন নিয়ে বিএনপি দ্রুত পদক্ষেপ চায় সরকারের

ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে ‘শুধুমাত্র একটি দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়’- ড. ইউনূসের এই বক্তব্যের শক্তভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটিকে জানানো হয়।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

নির্বাচন নিয়ে বিরোধে না জড়িয়ে দ্রুত অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ দেখতে চায় বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, নির্বাচন নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিলেই সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অটুট থাকবে। ‘শুধুমাত্র একটি দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়’-জাপানে প্রধান উপদেষ্টার এমন বক্তব্যেও বিএনপির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাত পৌনে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে সংস্কার ইস্যুতে গত সোমবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে ‘শুধুমাত্র একটি দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়’- ড. ইউনূসের এই বক্তব্যের শক্তভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে স্থায়ী কমিটিকে জানানো হয়। ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জাপানে আপনি যে কথা বলেছেন, সেটি ঠিক নয়। আপনার এই বক্তব্য বিএনপিকে আহত করেছে।’ এই বিষয়টিও বিএনপির স্থায়ী কমিটিকে জানানো হয়।

জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা অভিমত নিয়েছেন, সরকারের সাথে এখন পর্যন্ত বিএনপির যে আলোচনা, পর্যালোচনা কিংবা বৈঠক হয়েছে; সেখানে নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে তাদের প্রত্যাশার যে জায়গা, সে বিষয়ে সরকারের তরফ থেকে তারা কোনো কিছু পায়নি। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নির্বাচনই যে বিএনপির মূল দাবি, সে ইস্যুতে এখন পর্যন্ত এসব বৈঠকের ফলাফল বলতে গেলে শূন্য। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দলটি। অবশ্য ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে বিএনপির তরফ থেকে সরকারকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার যে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, দলটি আশা করে, সরকার খুব দ্রুতই সে রোডম্যাপ ঘোষণা করবে।

সূত্র মতে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপি নেতারা অভিমত ব্যক্ত করে বলেন যে, তারা এ সরকারের অধীনেই নির্বাচন চান। সুতরাং সরকারের সাথে এখনই তাদের সরাসরি কোনো দ্বন্দ্বে যাওয়া ঠিক হবে না। তবে সুস্পষ্ট রোডম্যাপের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সরকারকে অব্যাহতভাবে চাপে রাখতে হবে।

বৈঠকে পুনরায় সিদ্ধান্ত হয়, দেশী-বিদেশী বিভিন্ন চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র মোকাবেলা এবং দেশের স্থিতিশীলতা ফেরাতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যে জাতীয় নির্বাচন প্রয়োজন, বিভিন্ন ফোরাম থেকে সেটা তারা অব্যাহতভাবে তুলে ধরবে। আর ঈদুল আজহার পরে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তারা পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

উচ্চ আদালতের রায়ের পরও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনকে এখনো শপথ না পড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে। দলটি মনে করে, সরকারই শপথের প্রক্রিয়াটি ঝুলিয়ে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছেন যে, এটি (শপথ) নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিষয়। তাই বিএনপি এখন অপেক্ষা করছে, ইসি কী সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সাথে মেয়র পদে ইশরাককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার দাবিতে তার কর্মী-সমর্থক ও ঢাকাবাসী নগর ভবন প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে যে কর্মসূচি পালন করছে, সেটির প্রতিও বিএনপির সমর্থন রয়েছে।

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-কে ‘কালো আইন’ উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবিতে ১০ দিনের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন সচিবালয়ে কর্মরত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা। আন্দোলন চলার মধ্যেই অধ্যাদেশটি জারি করে সরকার। এর পর থেকে বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও স্মারকলিপি দেয়ার মতো কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারী কর্মচারীরা। আইনটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এমনকি ঈদুল আজহার পরে আরো কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। দলটি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, বিষয়টি সরকার সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করতে পারছে না। তারা এ-ও মনে করেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে।