আযাদ আলাউদ্দীন বরিশাল
বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন প্রয়োজনীয় ভোটের ন্যূনতম সীমা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট না পাওয়ায় ওই সব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
ফলাফলে দেখা গেছে, ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। অন্য দিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় একই পরিণতির মুখে পড়েছেন।
বরিশাল-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী পেয়েছেন এক হাজার ৭৩৬ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো: রাসেল সরদার পেয়েছেন ছয় হাজার ৮৪৬ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোট ছিল দুই লাখ তিন হাজার ৮৬০ ভোট। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় উভয় প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
বরিশাল-২ আসনে জাতীয় পার্টির (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী আবদুল হক পেয়েছেন দুই হাজার ৩২৯ ভোট এবং নাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এম এ জলিল পেয়েছেন এক হাজার ১৯৯ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মাদ নেছার উদ্দিন পেয়েছেন ছয় হাজার ২১ ভোট। এ ছাড়া জাসদ-এর মো: আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১৩৫ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ পেয়েছেন ৭০০ ভোট এবং এনপিপি-এর সাহেব আলী পেয়েছেন ১৮৫ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৩০ হাজার ৭৭৫। ছয়জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
বরিশাল-৩ আসনে ট্রাক প্রতীকের ইয়ামিন এইচ এম ফারদিন পেয়েছেন ৮৬০ ভোট। জাতীয় পার্টির (নাঙ্গল) সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৮৪ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩২৫ ভোট। মই প্রতীকের আজমুল হাসান জিহাদ পেয়েছেন ২১৪ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোট ছিল এক লাখ ৭৭ হাজার ৭১৬। চার প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
বরিশাল-৪ আসনে মুক্তিজোটের আব্দুল জলিল ছড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪১৩ ভোট। জাসদের আব্দুস সালাম খোকন মোটরগাড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৩৪ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল দুই লাখ ৪৫ হাজার চার। দুই প্রার্থীর জামানতই বাজেয়াপ্ত হয়।
বরিশাল-৫ আসনে জাতীয় পার্টির আখতার রহমান নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯০৯ ভোট। এনপিপির আব্দুল হান্নান সিকদার আম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৯৪ ভোট। বাসদের ডা: মনীষা চক্রবর্তী মই প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২২ হাজার ৪৮৬ ভোট। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীক নিয়ে পেয়েছে ৩০০ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল দুই লাখ ৬২ হাজার ৪৭০। চারজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বরিশাল-৬ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আব্দুল কুদ্দুস হ্যারিকেন প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৪৪ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: কামরুল ইসলাম খান ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৬৬ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের মো: সালাউদ্দিন মিয়া ট্রাক প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৩৯ ভোট। এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল এক লাখ ৭১ হাজার ১৩৮। তিনজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো: খায়রুল আলম সুমন জানান, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই অনুযায়ী জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।



