নিজস্ব প্রতিবেদক
২০১৭ সালে রাজধানীর শান্তিনগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেয়র সাঈদ খোকন শত কোটি টাকা ব্যয় করেছিলেন। এভাবে গত কয়েক বছরে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে দুই সিটি করপোরেশন। কিন্তু অবস্থা সেই আগের বৃত্তেই রয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে আবার সেই আগের মতোই রাজধানীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। দুর্ভোগের যেন শেষ নেই নগরবাসীর। জলের মতো অর্থ গেলেও জলাবদ্ধতা আছে আগের মতোই। বৃষ্টি হলেই শান্তিনগর এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে যেত। এ পানি সরতে সময় লাগতো ১০-১২ ঘণ্টার মতো। এজন্য এ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৫ সালে ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেন মেয়র সাঈদ খোকন। ২০১৮ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। ফলে এ এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যায়। এরপর ব্যারিস্টার তাপসের সময় বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতার স্থান নির্দিষ্ট করে সেখানে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নেয়া হয়। একইভাবে কাওরানবাজার, তেজগাঁও, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা উত্তরের মেয়রের আসনে বসা ব্যক্তিরা প্রকল্প নিয়েছেন। কিন্তু পরিস্থিতি সেই আগের মতোই রয়ে গেছে।
রাজধানীতে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা নিত্যনৈমিত্যিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, বাড়ছে বাজেটের আকার কিন্তু জলাবদ্ধতা থাকছে আগের মতোই। প্রতি বছর দুই সিটি করপোরেশন থেকে জলাবদ্ধতা কমার আশ^াস দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার বাস্তবায়ন সামান্যই। কোনো কোনো সড়কে নতুন করে ড্রেনের প্রশস্ততা বাড়ালে ওই স্থানে সাময়িক জলাবদ্ধতা কমলেও নতুন করে আরেক স্থানে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতার সঙ্কট। ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশন সূত্র বলছে, গত এক যুগে জলাবদ্ধতা নিরসনে সব মিলিয়ে কমপক্ষে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু এরপরও নগরীর জলাবদ্ধতার সঙ্কট কাটেনি।
জলাবদ্ধতা নিরসনে এ বছরও নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জানিয়েছে, নগরীর সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় আগেভাগেই বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম শুরু করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। সম্ভাব্য জলাবদ্ধতার স্থান চিহ্নিত করে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। ঢাকার এয়ারপোর্ট রোড, মিরপুর রোড সহ যেসব স্থানে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব অঞ্চলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন ও খালের পানিপ্রবাহ সচল রাখার উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগেও একইভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসক মো: আবদুস সালামের বিশেষ উদ্যোগে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘জিয়া সরণি খাল’ পুনরুদ্ধার ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য খালের ময়লা অপসারণের কাজ চলছে। এই প্রকৌশলগত পরিবর্তনের ফলে নিষ্কাশন পথ কমে আসবে এবং এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হওয়ার প্রত্যাশা ডিএসসিসির। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পর রাজধানীর চিত্র পুরনো দিনের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। গতকালের দুপুরে বৃষ্টির পর রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, ধানমন্ডি, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, কাওরান বাজার, ফার্মগেট, রামপুরা, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, শাহজাহানপুর, সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যায়। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে যানচলাচল ব্যাহত হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিন এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।



