নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম আবারো বেড়েছে। একই সাথে দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া চালের দাম এখনো কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে পেঁয়াজ, রসুন, শাকসবজি এবং তেল, চিনি, ডালের মতো অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও চাল ও মুরগির উচ্চমূল্য নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ রয়ে গেছে।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বাজারে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে একই মুরগির দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। অন্য দিকে সোনালি মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে মুরগি বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মালিবাগ বাজারে এক বিক্রেতা বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে। এতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আড়তে দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম না কমা পর্যন্ত খুচরা পর্যায়ে দাম কমার সম্ভাবনা কম।
এ দিকে চালের বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে মিনিকেট, নাজিরশাইল ও বিআর-২৮ জাতের চালের দাম কেজিপ্রতি ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। সেই বাড়তি দামই বহাল রয়েছে।
বর্তমানে বাজারে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৬৮ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাইল চালের মানভেদে দাম ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা এবং বিআর-২৮ বা মাঝারি চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল পর্যায়ে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম কমানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে ভোক্তাদের বাড়তি দামেই চাল কিনতে হচ্ছে।
তবে সবজির বাজারে স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। বাজারে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় অধিকাংশ সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সবজির দামে বড় ধরনের ওঠানামা নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বাজারে ক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম এখন নাগালের মধ্যেই রয়েছে। তবে চাল ও মুরগির দাম বাড়ায় সংসারের ব্যয় কমছে না। সেগুনবাগিচা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান বলেন, সবজির বাজার কিছুটা সহনীয় হলেও চালের দাম একবার বাড়লে আর কমতে চায় না। এর সাথে আবার মুরগির দামও বেড়েছে।
তারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করেন। তাই নিত্যপণ্যের বাজারে কার্যকর তদারকি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।
এ দিকে পেঁয়াজ ও রসুনের বাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ভোজ্যতেল, চিনি ও ডালের বাজারেও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এসব পণ্যের দামে আপাতত বড় কোনো পরিবর্তনের আশঙ্কা নেই।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে মৌসুমি আবহাওয়ার প্রভাব, উৎপাদন পরিস্থিতি এবং সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেই আগামী দিনগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হবে। বিশেষ করে মুরগির সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দাম আরো কিছু দিন বর্তমান অবস্থায় থাকতে পারে।



