নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বরিশালের গৌরনদী ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। কুষ্টিয়ার জমি নিয়ে বিরোধে এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বরিশালের গৌরনদীতে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ কর্তৃক তিন বছরের এক শিশুকন্যা ধর্ষিতা হয়েছে।
শুক্রবার আছরের পরে উপজেলার বাউরগাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের কলেজছাত্র রায়হান মীর জানান, শুক্রবার আসরের পরে তার প্রতিবেশী মৃত আজাহার শিকদারের ছেলে জালাল শিকদার (৬৫) তার প্রতিবেশী এক শিশুকন্যাকে (৩) মোবাইল ফোনে কার্টুন দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে নিজ বসতঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত ধর্ষক গা-ঢাকা দিয়েছে। গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: তৌকির আহমেদ জানান, শিশুকন্যাটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনরা ওই দিন গভীর রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার বিকেলে ধর্ষিতা শিশুর চাচী জানান, ধর্ষিতাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই মেডিক্যালে ধর্ষিতার মেডিক্যাল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই মো: ফিরোজ আলম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ওই রাতেই আমি গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি ধর্ষিতাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ধর্ষককে আটকে রাখা হয়েছে বলে খবর পেয়ে আমি ওইরাত ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। তখন বাড়ির লোকজন জানায় ধর্ষক পালিয়ে গেছে। তবে এই ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য এখন পর্যন্ত কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি।
গফরগঁাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ধর্ষণের ভিডিও দেখিয়ে আবারো ব্ল্যাকমেইল করে মাদরাসা পড়ুয়া ১১ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে আল আমিন (৩৭) নামের এক মুদি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামের নয়াপাড়া এলাকায় ঘটে। অভিযুক্ত ধর্ষক মুদি ব্যবসায়ী আল আমিন একই এলাকার মো: তাইজ উদ্দিনের ছেলে।
এ দিকে শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগী শিশুর মা হালিমা খাতুন বাদি হয়ে আল আমিনকে অভিযুক্ত করে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।
ভুক্তভোগী পরিবার ও থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় রসুলপুর দারুন নাজাত মাদানী ক্যাডেট মাদরাসায় ৫ম শ্রেণীতে লেখাপড়া করে। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায় দিকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির পাশে অভিযুক্ত আল আমিনের মনোহারি দোকানে ১০০ টাকার নোট ভাঙাতে যায়। এ সময় বিস্কুট খাবারের প্রলোভনে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং তা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে আল আমিন। এ ঘটনা কাউকে কিছু না বলা জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়।
এরপর শিশু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত ধর্ষক আল আমিন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিত এবং তার কাছে আসতে বলত। এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় মাদরাসা থেকে ফেরার পথে আল আমিন রাস্তার পথরোধ করে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে ওই মাদরাসা শিক্ষার্থীকে টানা হেচরা করে। এ সময় ডাক চিৎকারে আল আমিনের হাত থেকে ছুটে ওই মাদরাসা শিক্ষার্থী দৌড়ে বাড়ি ফিরে তার মা-সহ পরিবারে লোকজনের কাছে বিষয়টি জানায়।
এ ঘটনার বিষয়ে গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আসামি গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, বসত-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ফুফাতো ভাইদের নির্মম নির্যাতনে মারা গেলেন চিকিৎসাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মসলেম আলী মণ্ডল (৫৫)। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত কলেজ শিক্ষক মসলেম মণ্ডল সদর উপজেলার হররা ডাক্তারপাড়ার আবেশ মণ্ডলের ছেলে। তার স্ত্রী জেসমিন রহমান ও ৫ বছর বয়সের কন্যা মুমতাহিনা। শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। হত্যাকারীরা পলাতক রয়েছে। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের হোতাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, শিক্ষক মসলেম মণ্ডলের পৈত্রিক ভিটার ৪ শতাংশ জমি নিজেদের দাবি করে তার ফুফাত ভাই রওশন মণ্ডলের ছেলে জহুরুল ইসলাম জোরপূর্বক পাকাঘর তুলে বসবাস করে আসছিল। স্থানীয়ভাবে বহু সালিশ বৈঠকেও এর সমাধান না হওয়ায় আদালতে পর্যন্ত গড়ায়। স্থানীয় আদালত ও হাইকোর্ট থেকে মসলেম মণ্ডলের পক্ষে রায় হয়। আদালত থেকে ওই জমির প্রকৃত মালিক মসলেম মণ্ডলকে জমি বুঝিয়ে দিতে গত বছর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ এলাকায় এলে উত্তেজনা শুরু হলে পুলিশ এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
নিহত শিক্ষকের বড় ভাইয়ের মেয়ে বুলু বেগম জানান গত ১৭ জুন বিরোধপূর্ণ জমির ওপর অবস্থিত একটি আমবাগানে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ির পাশে রওশন মণ্ডলের ছেলে জহুরুল ও মামুন, বিশু মণ্ডলের ছেলে আশরাফুল, শাজাহান মণ্ডলের ছেলে মিঠুন ও জয়নাল মণ্ডলের ছেলে উজ্জ্বল ও মাহাবুল মণ্ডল শিক্ষক মসলেম মণ্ডলের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তার বাম পা, ডান হাত ও গোড়ালিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এলাকাবাসীর ৯৯৯ কল পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই রাতেই সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান। ঢাকায় ময়না তদন্ত শেষে শনিবার গভীর রাতে মরহুমের লাশ কুষ্টিয়ায় পৌঁছাই। শনিবার সকাল ৯টায় হররা গ্রামের ঈদগাহে প্রথম জানাজা এবং সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের কলিয়া মধ্যপাড়া গ্রামে নিজ বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলিফা আক্তার (১৬) ওই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে আলিফাকে ঘরে মুঠোফোনে গেমস খেলতে দেখে তার দাদা বাড়ির কাছের একটি দোকানে যান। দোকান থেকে ফিরে তিনি ঘরের কাঠের আড়ার সাথে আলিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে লাশ নিচে নামায়। স্বজনরা জানান, আলিফা দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছিল। পুলিশ লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।



