রাজশাহী ব্যুরো
জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়; এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য, জীবিকা ও মৌলিক অধিকারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। তাই বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য পানি ও পরিবেশ সংরণ, মানুষের অধিকার রা এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, রাজশাহীর সম্মেলন কে আয়োজিত এক সভায় সাংবাদিকরা এ কথা বলেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত অবয়ের কারণে সবচেয়ে ঝুঁঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরতি করার ল্েয এনগেজ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নেট্জ বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় উন্নয়ন সংস্থা ডাসকো ফাউন্ডেশন সভাটির আয়োজন করে।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। প্রকল্পের পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী রুহুল আমিন। আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক হাসান মিল্লাত, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা: আব্দুল আউয়াল, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শ.ম সাজু, রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব অপু, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি ড. আইনাল হক, দৈনিক নতুন প্রভাত পত্রিকার সম্পাদক সোহেল মাহবুব প্রমুখ। এতে রাজশাহীতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২০ জন সাংবাদিক ও পাঁচজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর অংশ নেন।
সভায় রাজশাহী জেলার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রোপটে পরিবেশগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবেলার উপায় নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় রাজশাহী অঞ্চলের সুপেয় পানির সঙ্কট, কৃষিতে মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার, খাস পুকুর ভরাট, ইটভাটার দূষণ এবং প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা তুলে ধরা হয়।
সাংবাদিকরা বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে বড় ধরনের পানি সঙ্কট তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে বৃষ্টির পানি সংরণ, উপরস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং কৃষিতে কাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তি ও পদ্ধতির সম্প্রসারণ প্রয়োজন।
এ ছাড়া নদী ও খাল পুনঃখননে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ, অপরিকল্পিত পুকুর খনন ও ভরাট বন্ধ, কৃষিতে তিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কমানো এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদপে নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
সমাপনী বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সম্প্রতি সরকার ৪৭টি ইউনিয়নকে পানি সঙ্কটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করেছে, যা উদ্বেগের বিষয়। কাজেই আমরা আশাকরি, যথাযথ লেখনীর মাধ্যমে বিষয়গুলো তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের বিকল্প কী হতে পারে, তা কর্তৃপরে কাছে তুলে ধরতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁঁকিতে রয়েছে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তাই পরিবেশ ও জলবায়ু সঙ্কটকে শুধু উন্নয়ন বা পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে না দেখে মানবাধিকার ও জীবিকার প্রশ্ন হিসেবেও দেখতে হবে।
তারা আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তথ্যভিত্তিক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে পরিবেশগত সমস্যা, তিগ্রস্ত মানুষের বাস্তবতা এবং সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরলে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হবে।



