ক্রীড়া প্রতিবেদক
কখনো ব্যাটিং ব্যর্থতা, কখনো ফিল্ডিংয়ের ভুল, আবার কখনো চাপের মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারানো- সমস্যার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, কিন্তু সমাধানের পথ স্পষ্ট নয়। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও নেতৃত্ব নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। নারী ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু ‘জ্যোতি থাকবেন কি না’-এটি নয়। বরং প্রশ্নটা আরো গভীরে! যে দলকে কয়েক বছর ধরে এগিয়ে নেয়ার কথা ছিল, সেই দল কেন এখনো ব্যাটিং, ফিল্ডিং ও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সামলানোর জায়গায় একই ধরনের দুর্বলতার পুনরাবৃত্তি করছে? এশিয়ান গেমসের পর বড় পরিবর্তনের যে ইঙ্গিত বিসিবি দিয়েছে, সেটি কেবল অধিনায়ক বদলেই সমাধান নয়, পৌঁছাতে হবে আরো গভীরে।
২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচে দু’টি জয় পেয়েছিল। অধিনায়ক জ্যোতিও পুরো টুর্নামেন্টে ১২৭ রান করেছিলেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ধারাবাহিকতার। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৭ বলে ২৭ রান, পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৬ বলে ৩৬ এবং ভারতের বিপক্ষে ২৭ বলে ৩২ -এই ইনিংসগুলো বলছে, জ্যোতি একেবারে ছন্দহীন নন! বরং দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে বড় ইনিংস ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার ধারাবাহিকতা তার ব্যাটে দেখা যাচ্ছে না।
এশিয়া কাপেও একই প্রশ্ন আরো জোরালো হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বাংলাদেশের ৪০ রানের হার এবং পুরো টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সে ব্যাটিংয়ের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। তার চেয়েও উদ্বেগের বিষয়, গত বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে চলে আসা ফিল্ডিং দুর্বলতার কথাও সামনে এসেছে। ভারতের বিপক্ষে হারের পরও বাংলাদেশের ক্যাচিং দক্ষতা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে! গত বছরের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্যাচিং দক্ষতা ছিল অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল। ব্যাটিং অর্ডারে স্থিরতা নেই, রান তোলার গতি অনেক সময় প্রতিপক্ষের তুলনায় পিছিয়ে যায়, আর চাপের মুহূর্তে ফিল্ডিংয়ের ভুল ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। ফলে জ্যোতি ভালো খেললেও দলের জয় নিশ্চিত করার মতো গভীরতা তৈরি হচ্ছে না। আবার জ্যোতি ব্যর্থ হলে সেই ঘাটতি পূরণ করার মতো ব্যাটিং শক্তিও অনেক সময় দেখা যাচ্ছে না।
২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের নেতৃত্বে থাকছেন জ্যোতিই। ১৭ সেপ্টেম্বর চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে অভিযান শুরু হওয়ার কথা। জিতলে পরের ধাপে ভারত বা জাপানের মুখোমুখি হতে পারে বাংলাদেশ। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জ্যোতি ও তার দলের সামনে নিজেদের প্রমাণের আরেকটি সুযোগ। বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবুর বক্তব্যেও সেই অপেক্ষার বিষয়টি পরিষ্কার। ‘আমরা এটি পর্যবেক্ষণ করছি। সদ্যই এশিয়া কাপ শেষ হলো। সেখান থেকে ওরা সরাসরি এশিয়ান গেমসে খেলতে যাবে। আমি এখন এমন কথা বলতে চাচ্ছি না। যেহেতু দল আগেই নির্বাচিত হয়েছে, অধিনায়কও নির্ধারিত। আরো দেড়-দুই মাস আগে দল পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’
একটি বার্তাও পরিস্কার, জ্যোতির নেতৃত্ব এখন আর প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নেই! পর্যবেক্ষণ চলছে। তবে টুর্নামেন্টের পর এগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।



