শেখ হাসিনার রায়

ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি প্রসিকিউশনকে হুমকি গ্রেফতার ১

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের রায় ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক ও প্রসিকিউশন টিমকে হত্যার হুমকি দেয়ায় মো: শরীফ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। এর আগে বুধবার (১৯ নভেম্বর) পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন শরীফ। তার বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার সাতআনি গ্রামে।

প্রসিকিউশন জানায়, জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক ও প্রসিকিউটরদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় চারজনকে শনাক্তের পর একজন গ্রেফতার হয়েছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই সাথে রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা ব্রিটিশ আইনজীবী

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আইনজীবী আফজাল সামী সৈয়দ-আলী। একই সাথে প্রসিকিউশনের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যারিস্টার মুহাম্মদ সাইফ উদ্দীন খালেদ। গত সন্ধ্যায় চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: মাসুদ রানা স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দু’জনই এক বছরের জন্য অবৈতনিক ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আইনজীবী আফজাল সামী সৈয়দ-আলীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের স্পেশাল প্রসিকিউটোরিয়াল অ্যাডভাইজর এবং বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ব্যারিস্টার মুহাম্মদ সাইফ উদ্দীন খালেদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর (ইন্টারন্যাশনাল স্পোকসপারসন) হিসেবে এক বছরের জন্য নিয়োগ (অবৈতনিক) দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার কার্যক্রম আরো সুসংহত করা, বৈশ্বিক মহলে ট্রাইব্যুনালের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই দুই বিশেষজ্ঞকে যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম আরো শক্তিশালী হবে। একই সাথে তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বিদেশী আইন অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা ট্রাইব্যুনালের কাজকে আরো গতিশীল করবে।