পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফের পুত্র এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নাতি জুনায়েদ সফদরের বিয়েকে কেন্দ্র করে লাহোরে গত কয়েকদিন ধরে ছিল রাজকীয় উৎসবের আমেজ। সাবেক সংসদ সদস্য শেখ রোহাল আসগরের নাতনি শাঞ্জে আলী রোহালের সাথে এই উচ্চবিত্ত ও আভিজাত্যপূর্ণ পরিণয় সম্পন্ন হয়। ২০২৬ সালের এই মেগা ওয়েডিংয়ের প্রতিটি ধাপে ছিল ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক অনন্য সংমিশ্রণ। উৎসবের শুরুটা ছিল শনিবার, যখন লেক সিটি গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে এক মনোরম রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে জুনায়েদ ও শাঞ্জের নিকাহ সম্পন্ন হয়। ধর্মীয় গাম্ভীর্য বজায় রেখে সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজনে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ জানাতে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও নওয়াজ শরিফসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বিয়ের মূল অনুষ্ঠানে জুনায়েদ পরেছিলেন ডিজাইনার হাসান শেহেরিয়ার ইয়াসিনের তৈরি একটি মার্জিত আইভরি শেরওয়ানি ও সোনালি কারুকাজ করা পাগড়ি। অন্য দিকে কনে শাঞ্জে পরেছিলেন ভারতীয় ডিজাইনার তরুণ তাহিলিয়ানির নকশা করা ঐতিহ্যবাহী লাল শাড়ি ও ম্যাচিং ওড়না। তার হীরা ও পান্নার গয়না এবং অত্যন্ত মার্জিত মেকআপ আভিজাত্যের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। তবে পুরো আয়োজনে যার ফ্যাশন সচেতনতা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে, তিনি হলেন মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ। ছেলের নিকাহর দিন তিনি ইকবাল হোসেনের নকশা করা একটি কারুকার্যময় পেস্তা-সবুজ পোশাক এবং রতœখচিত ভারী গয়নায় হাজির হয়ে সবার নজর কাড়েন।
বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার শরিফ পরিবারের জাতি উমরাহ এস্টেটে আয়োজন করা হয় জমকালো ওয়ালিমা বা বিবাহোত্তর সংবর্ধনার। খামারবাড়ির আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটিতে ছিল আভিজাত্যের চূড়ান্ত ছোঁয়া, যেখানে অনেক ছবিতে রাজকীয় ঘোড়াদেরও দেখা গেছে। ওয়ালিমা অনুষ্ঠানে নবদম্পতি পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় ডিজাইনার ফারাজ মানানের পোশাকে সজ্জিত ছিলেন। জুনায়েদ একটি ধূসর শেরওয়ানি এবং শাঞ্জে ল্যাভেন্ডার রঙের হীরা ও রূপালি কাজ করা ভারী লেহেঙ্গায় নিজেকে সাজিয়ে তোলেন। অনুষ্ঠানের প্রতিটি বিশেষ মুহূর্ত জুনায়েদ তার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন। একটি ছবির ক্যাপশনে তিনি তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখেন যে, জীবনে কিছু মানুষের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার, যা মানুষের জীবনকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়। সমাপনী এই আয়োজনেও মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ তার রুচিশীলতার পরিচয় দেন নোমি আনসারির ডিজাইন করা একটি গোলাপি ও ফিরোজা রঙের আনারকলি পোশাকে। পোশাকের সাথে মিলিয়ে তার রতœখচিত গয়না ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক ও পারিবারিক ঐতিহ্যের মিশেলে লাহোরের এই ‘রয়্যাল ওয়েডিং’ শেষ হলেও নবদম্পতির সুন্দর ও সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়ে যাচ্ছেন দেশী-বিদেশী অসংখ্য গুণগ্রাহী।



