ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও গত বছরের ভালো দামের কারণে এবার প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। মাঠজুড়ে সবুজ পাটক্ষেত কৃষকদের আশাবাদী করলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
উপজেলার পুড়াপাড়া, শহীদনগর, কাইচাইল, মাঝারদিয়া, আটঘর, গট্টি, রামকান্তপুর ও ভাওয়াল ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠে এখন পাটের সমারোহ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা জমিতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সার প্রয়োগ করছেন, আবার কেউ পোকামাকড় দমনে কীটনাশক ছিটাচ্ছেন।
কৃষক রহিম মিয়া বলেন, ‘এবার পাটগাছ বেশ ভালো হয়েছে। মাঠ দেখলে মন ভরে যায়। কিন্তু খরচ এত বেড়েছে যে লাভ নিয়ে চিন্তায় আছি। বাজারে ভালো দাম না পেলে খরচ তোলাই কঠিন হবে।’
একই ধরনের শঙ্কার কথা জানান কৃষক সিরাজ শেখ। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি, সার ও কীটনাশকের দামও আগের তুলনায় অনেক বেশি।
কৃষক আবু মোল্যা জানান, কয়েক বছর আগেও এক বিঘা জমিতে পাট চাষে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকায়।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জমি প্রস্তুত, বীজ সংগ্রহ, সার প্রয়োগ, সেচ, আগাছা দমন ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ- সব ক্ষেত্রেই খরচ বেড়েছে। বিশেষ করে ডিজেলচালিত সেচব্যবস্থার কারণে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক সঙ্কটও চাষিদের বাড়তি চাপের মধ্যে ফেলেছে।
উৎপাদন ব্যয়ের পাশাপাশি বাজারদর নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে কৃষকদের মধ্যে। তাদের আশঙ্কা, প্রতি বছরের মতো এবারো যদি দামের বড় ওঠানামা হয়, তাহলে লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ, বাজার তদারকি জোরদার এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। একই সাথে সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও ভর্তুকি বাড়ানোরও দাবি জানান তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদার বলেন, গত বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় এবার আবাদ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনের সম্ভাবনাও ভালো। তিনি জানান, পাট পচানোর জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তাও দেয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাট উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে পাট চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা দেশের ঐতিহ্যবাহী এই খাতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।



