বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো: আফজাল হোসেনকে নিয়ে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানান সংগঠনের নেতারা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে ‘অডিট আপত্তি মানেই দুর্নীতি নয়’- উল্লেখ করে অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির আগে কোনো কর্মকর্তা বা প্রকল্পকে দুর্নীতির সাথে যুক্ত করে সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় সংগঠনের নেতারা জানান, তারা কোনো ব্যক্তির অন্ধ সমর্থনে দাঁড়াননি। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনস্বার্থের পক্ষে তাদের অবস্থান। অডিট আপত্তি উঠলে অবশ্যই এর জবাবদিহি ও নথি যাচাই, প্রয়োজন হলে তদন্ত করতে হবে। অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে নিষ্পত্তির আগেই অডিট আপত্তিকে দুর্নীতির চূড়ান্ত রায় হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।
তারা বলেন, অভিযোগ, অডিট আপত্তি এবং প্রমাণিত অপরাধ- তিনটি এক বিষয় নয়। তাই প্রমাণের আগে কাউকে অপরাধী বানানোর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান।
সংবাদ সম্মেলনে পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প নিয়ে বিভিন্নভাবে সামনে আসা ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের দাবির প্রসঙ্গ তুলে তারা বলেন, এ হিসাবের ভিত্তি জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। চুক্তিমূল্য, সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় ও প্রকৃত ব্যয়ের পার্থক্যকে সরাসরি ‘অতিরিক্ত ব্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে আবেগের পরিবর্তে নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রয়োজন।
একটি বড় রাষ্ট্রীয় প্রকল্প কখনো একজন ব্যক্তি একা পরিচালনা করেন না। পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন সময়ে এস কে চক্রবর্তী, সুকুমার ভৌমিক, গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মো: আফজাল হোসেন ও বর্তমানে নাজনীন আরা কেয়া প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই যে সময়ে যে কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময়ের সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা আলাদাভাবে অনুসন্ধানের দাবি জানান তারা।
কে কাজের পরিমাণ ও গুণগত মান যাচাই করেছেন, কে বিল ভেটিং করেছেন, কে অনুমোদন দিয়েছেন এবং কোন নথির ভিত্তিতে অর্থ ছাড় হয়েছে- এসব বিষয় অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, এতে প্রকৃত দায় নির্ধারণ সহজ হবে। কাউকে দায়মুক্তি দেয়া যেমন আমাদের উদ্দেশ্য নয়, তেমনি প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করতেও চায় না।
বর্তমান মহাপরিচালকের প্রসঙ্গেও একই অবস্থান জানিয়ে তারা বলেন, ওনার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হোক। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রশাসনিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেলওয়ে কারিগরি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস কে বারি, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়নের আনারুল হক হনি, মাহাবুবুর রহমান, মো: শাহাজাহান সরকার, এস কে খোদা তোতনসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি।



