ডাক্তারের ওষুধ পাল্টে দেন ফার্মাসিস্ট রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক

Printed Edition

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন পরিবর্তন করে ওষুধ দেয়ার অভিযোগে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চুন্নু মিয়া (৪৮) নামে এক হৃদরোগীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী রোগী গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত ওষুধ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র সূত্রধরের বিরুদ্ধে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের গনেরগাঁও গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর চুন্নু মিয়া গত বছরের ২ নভেম্বর বুকে চাপ অনুভব করলে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসক শাহরিয়ার নাজিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে হৃদরোগী হিসেবে শনাক্ত করেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন। পরে ওই প্রেসক্রিপশন নিয়ে চুন্নু মিয়া কটিয়াদী পুরাতন বাজারের গুরুদেব ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যান।

চুন্নু মিয়ার অভিযোগ, ফার্মেসির মালিক গোপাল চন্দ্র সূত্রধর ডাক্তারের লেখা ওষুধ কলম দিয়ে কেটে প্রেসক্রিপশনের উল্টোপিঠে নিজের পছন্দমতো ওষুধ লিখে দেন এবং সেগুলো সেবনের পরামর্শ দেন। রোগী প্রায় এক মাস এসব ওষুধ সেবন করার পর শরীরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং অবস্থার অবনতি ঘটে। ভুক্তভোগী চুন্নু মিয়া বলেন, ‘আমি লেখাপড়া জানি না। দোকানদার যা দিয়েছে তাই খেয়েছি। এতে আমার অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। আমি এই প্রতারণার বিচার চাই।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোপাল চন্দ্র সূত্রধর দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ওষুধের ব্যবসা করছেন এবং রোগী নাকি আগের চেয়ে সুস্থ হয়েছেন। তবে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এটিকে নিজের ভুল বলে স্বীকার করেন। কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সৈয়দ মো: শাহরিয়ার জানান, ঘটনাটি তদন্তে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারকে সভাপতি করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।