খালিদ সাইফুল্লাহ
জামায়াত বিজয়ী হয়েছে জানার পর সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজিসহ সব অনিয়ম-দুর্নীতি এমনিই অর্ধেক বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করেন ঢাকা-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় গ্যাসসঙ্কট, সুয়ারেজ লাইন, বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট, সরু রাস্তা, চাঁদাবাজি, মাদক অন্যতম সমস্যা। বিজয়ী হলে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হবে। সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলে এলাকার সমস্যা সমাধান করা হবে। বুড়িগঙ্গাকে দূষণমুক্ত করে লন্ডনের টেমস নদীর মতো পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
নয়া দিগন্ত : আপনার দৃষ্টিতে আপনার নির্বাচনী এলাকার সমস্যা কী কী?
ড. আব্দুল মান্নান : এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে রাস্তাঘাট, মশা, জলাবদ্ধতাসহ নানা নাগরিক সমস্যায় ভুগছে এলাকাবাসী। প্রয়োজনীয় খেলার মাঠ নেই। মাদক ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ এলাকার বাসিন্দারা। সদরঘাট, কাপ্তানবাজার, ফলের মার্কেট, নবাবপুর রোডসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা নীরব চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। এলাকার দখল বাণিজ্য রয়েছে। জলাধার ও খেলার মাঠ দখল হয়ে গেছে। বুড়িগঙ্গার দূষিত পানি এলাকার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, সুয়ারেজ ব্যবস্থাপনা ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট রয়েছে। এ ছাড়াও এলাকার বাড়ির খাজনা না নেয়ার কারণে নানা সমস্যায় জর্জরিত পুরান ঢাকার এ এলাকা।
নয়া দিগন্ত : নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে আপনি কী কী পদপে নিবেন?
ড. আব্দুল মান্নান : এসব সমস্যা তিন ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রথমত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি করে সমাধানের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। এরপর সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি নিয়ে সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
নয়া দিগন্ত : মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূলের বিষয়ে আপনাদের কর্মসূচি কী?
ড. আব্দুল মান্নান : মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সহযোগিতায় এ কর্মকাণ্ড চলছে। বিজয়ী হলে মসজিদভিত্তিক নাগরিক কমিটি, মসজিদ কমিটি এবং পঞ্চায়েত কমিটি নিয়ে একটি সামাজিক শক্তি গড়ে তোলা হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি এ সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে এলাকায় সচেতনতা তৈরি করা হবে। সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেয়া হবে। গডফাদার ধরা হবে। এ ছাড়া যুবকদের জন্য খেলাধুলা-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো হবে।
নয়া দিগন্ত : যানজট নিরসনে কী উদ্যোগ নিবেন?
ড. আব্দুল মান্নান : এ এলাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সরু রাস্তা হওয়ায় যানজট বেশি। এ যানজট নিরসনে একটি মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হবে। সে অনুযায়ী ধারাবাহিক উদ্যোগ নেয়া হবে।
নয়া দিগন্ত : নারীদের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী?
ড. আব্দুল মান্নান : দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদের ছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য নারীদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তায় জোর দেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীদের নিরাপদ চলাচলের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে।
নয়া দিগন্ত : যুবকদের নিয়ে আপনাদের কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?
ড. আব্দুল মান্নান : যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে আইসিটিতে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দেয়া হবে। স্বল্প শিক্ষিতদের ড্রাইভিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। মেধাবীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
নয়া দিগন্ত : ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কী ধরনের উদ্যোগ নিবেন?
ড. আব্দুল মান্নান : এ এলাকার ব্যবসার মূল প্রতিবন্ধকতা হলো চাঁদাবাজি ও সরু রাস্তা। এ সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হবে। সামাজিকভাবে চাঁদাবাজদের বয়কট করা হবে। রাস্তা সম্প্রসারণে এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে। পুরান ঢাকা দেশের সরকারকে বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স দিলেও সে পরিমাণ উন্নয়ন হয়নি। আমি ও আমার দল বিজয়ী হলে এ আসনকে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
নয়া দিগন্ত : বুড়িগঙ্গা নিয়ে আপনার কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?
ড. আব্দুল মান্নান : ঢাকা-৬ আসন মূলত বুড়িগঙ্গার তীর ঘিরে গড়ে উঠেছে। কিন্তু দূষিত পানির কারণে এ এলাকার ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজয়ী হলে বুড়িগঙ্গার তীরের অবৈধ কলকারখানা বন্ধ ও ইটিপি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গাকে ঘিরে লন্ডনের টেমস নদীর আদলে একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
নয়া দিগন্ত : এলাকার সংখ্যালঘু ভোটারদের নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
ড. আব্দুল মান্নান : ঢাকা-৬ আসনে কোনো ধর্মীয় ভেদাভেদ থাকবে না, সবাই নির্বিঘেœ নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন। কেউ সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই এদেশের নাগরিক, সবাই বাংলাদেশী। মন্দির কমিটি ও পঞ্চায়েতের সাথে সমন্বয় করে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার পূরণ করা হবে। এটি কোনো দয়া নয় বরং রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের প্রাপ্য অধিকার এবং এটি নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একটি সৌহার্দ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই আমরা।
নয়া দিগন্ত : আপনার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু?
ড. আব্দুল মান্নান : এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি-দুর্নীতিমুক্ত একটি সুন্দর নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে জামায়াতকে বিজয়ী করতে কাজ করছে। আশা করি মহান আল্লাহর রহমতে আমরা বিজয়ী হতে পারব।
নয়া দিগন্ত : ভোটারদের উদ্দেশে আপনার আহ্বান কী?
ড. আব্দুল মান্নান : আমরা পুরান ঢাকার অবহেলা আর দেখতে চাই না, আধুনিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক নির্মূল করা হবে, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে একটি ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে চাই। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের মানুষ বিশেষত পুরান ঢাকার মানুষ অধিকারবঞ্চিত। আমরা বিজয়ী হলে পুরান ঢাকার যানজট ও গ্যাস সমস্যাসহ সব মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। এজন্য এলাকার মানুষের প্রতি আহবান আমাকে বিজয়ী করে একবার এলাকার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ করে দিন। আশা করি আপনারা হতাশ হবেন না। আর নয় অবহেলা-আধুনিক হবে পুরান ঢাকা।



