নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অভাবের তাড়নায় নবজাতক কন্যাসন্তানকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে হত্যার চেষ্টা করেন তারই মা-বাবা। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দরের বক্তারকান্দি এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে ওই নবজাতককে উদ্ধার এবং বাবা-মাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ ও সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বন্দরের দেউলী বক্তারকান্দি এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে সুলতান মাহমুদ ওরফে আপন দম্পতির ঘরে নিরাপদ আশ্রয় হয়েছে উদ্ধার ওই নবজাতকের।
শিশুটি বর্তমানে আপন ও তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। শিশুটিকে দত্তক নিয়ে আপন সন্তানের মতোই লালন পালন করছেন তারা। আপন দম্পতির প্রায় এক বছরের এক ছেলেসন্তান রয়েছে। পরম মমতায় কুড়িয়ে পাওয়া এই নবজাতকটিকেও সন্তানের মর্যাদা দিয়েছেন তারা। এমনকি তাদের এক বছরের সন্তানের সাথেই মায়ের বুকের দুধ পান করছে শিশুটি। দত্তক নেয়া দম্পতি জানান, শিশুটি এখন পুরোপুরি সুস্থ ও নিরাপদে আছে। তারা তাকে নিজেদের অভাব পূরণ করতে নয় বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বড় করে তুলতে চান।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার বাসিন্দা আব্দুল হক একজন ভ্যানচালক। জীবিকার তাগিদে তিনি দেড় মাস আগে বন্দরের বক্তারকান্দি এলাকার মোজাম্মেল হকের বাড়িতে ভাড়া আসেন। স্ত্রী রেহেনা বেগম দুই ছেলে সন্তানকে বাড়িতে রেখে চার দিন আগে এক কন্যাসন্তান নিয়ে স্বামীর ভাড়া বাসায় ওঠেন। বুধবার রাতে রেহেনা বেগম আরেকটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। অভাবের সংসারে চতুর্থ (কন্যা) সন্তানের আগমনকে ‘বোঝা’ মনে করে বৃহস্পতিবার সকালে নিষ্ঠুর এক পরিকল্পনা করেন ওই দম্পতি।
সকাল ৮টার দিকে তারা নবজাতকটিকে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে একটি নির্জন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের আড়ালে শিশুটিকে নদীতে ফেলে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঘটনাটি দেখতে পান এবং সিসিটিভি ক্যামেরায় বিষয়টি লক্ষ করেন। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।



