উৎপাদন খরচের অর্র্ধেক দামে আলু লোকসানে কৃষক-ব্যবসায়ী

Printed Edition

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যয়ের চেয়ে অর্ধেকের কাছাকাছি দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। এক কেজি আলু উৎপাদন, বাছাই, বস্তাবন্দী, পরিবহন ও হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত খরচ পড়ছে প্রায় ২৩ টাকা। অথচ পাঁচ মাস হিমাগারে রাখার পর বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২ টাকা থেকে সাড়ে ১২ টাকা দরে। এতে কেজিপ্রতি প্রায় ১০-১১ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলার গোপীনাথপুর হিমাগার ও দীনা কোল্ড স্টোরেজে বর্তমানে প্রায় এক লাখ ৭৭ হাজার বস্তা আলু মজুত রয়েছে। বর্তমান বাজারদর ও সংরক্ষণ ব্যয় হিসাবে প্রতি বস্তায় গড়ে ২৮০ থেকে ৩০৫ টাকা লোকসান হচ্ছে। সে হিসাবে দুই হিমাগারে থাকা আলুতে সম্ভাব্য লোকসানের পরিমাণ প্রায় পাঁচ কোটি ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বাজারদর আরো কমলে লোকসানের পরিমাণও বাড়বে।

হিমাগার ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত প্রতি বস্তায় ৬৫ কেজি আলু কেনা হয়। বাছাই ও নষ্ট আলু বাদ দেয়ার পর বিক্রিযোগ্য থাকে প্রায় ৬০ কেজি। প্রতি বস্তা আলু কিনতে গড়ে ৫০০ টাকা, ভ্যানভাড়া ৬০ টাকা, হিমাগার ভাড়া ৪০০ টাকা এবং বস্তার জন্য ১২৫ টাকা খরচ হয়। সবমিলিয়ে প্রতি বস্তায় ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার ৮৫ টাকা। অথচ ৬০ কেজি আলুর বস্তা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়।

গোপীনাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী বাবু মন্ডল বলেন, ‘আগেরবারও ভালো দাম পাওয়া যায়নি। এবার ভালো দামের আশায় গোপীনাথপুর কোল্ড স্টোরেজে এক হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করেছিলাম। কিন্তু অস্বাভাবিক দরপতন ও ক্রেতাসঙ্কটে সেই মজুত এখন লোকসানের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তার মতে, এভাবে চললে ব্যবসায়ীরা হিমাগারে আলু রাখতে আগ্রহ হারাবেন এবং কৃষকরাও আগামী মৌসুমে আলু চাষে ঝুঁকি নিতে চাইবেন না। ভিকনী গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন এবার পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করেছেন। ভালো দাম পাওয়ার আশায় তিনি আলু বিক্রি না করে হিমাগারে রাখেন। কিন্তু দাম না বাড়ায় এখন লোকসানে তা বিক্রি করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু দরপতনই নয়, ক্রেতার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে কম দামেও আলু বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে একদিকে সংরক্ষণ ব্যয় বাড়ছে, অন্য দিকে মজুদ আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

গোপীনাথপুর হিমাগারের ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম বলেন, দরপতনের কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন। এ কারণে হিমাগার থেকে আলু উত্তোলনও কমে গেছে। সাধারণত এ সময়ে ৬০-৭০ হাজার বস্তা আলু উত্তোলন হলেও এবার বিপুল পরিমাণ আলু এখনো মজুদ রয়েছে। জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হিমাগার ভাড়া কমানো এবং প্রতি কেজি আলুর ভাড়া পাঁচ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে আলু কেনার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তিনি বলেন, আলুর রফতানি বাড়ানো ও বিকল্প বাজার তৈরির লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।