পটিয়া-চন্দনাইশ সংবাদদাতা (চট্টগ্রাম)
বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের কয়েক লাখ মানুষের নৌপথে চট্টগ্রামের সাথে আরো সহজ ও সহনীয় যোগাযোগের জন্য বাপাউবোর প্রত্যাশিত বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট মজবুতকরণ প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে বলে গতকাল বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাপাউবো কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেকের সভায় ওই প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৬ কোটি ২০ লাখ টাকা।
১৫ আগস্ট নয়া দিগন্তের তৃতীয় পাতায় শিগগিরই আলোর মুখ দেখছে বাঁশবাড়িয়া থেকে কুমিরা ফেরিঘাট উন্নয়ন প্রকল্প শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পরই গত ১৯ আগস্ট ওই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন লাভ করল।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট মূলত সীতাকুণ্ডের মূলভূখণ্ড এবং সন্দ্বীপের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও আধুনিক ফেরিঘাটটি নির্মাণ করেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত বছরের ২৪ মার্চ সেই ফেরিসার্ভিসটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ের বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরি সার্ভিসটি কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে আগস্টে ফেরিঘাটটি আবার সচল করা হয়। এটি মূলত পরিচালনা করছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ।
এই ফেরি সার্ভিস কয়েক লাখ সন্দ্বীপবাসীর জন্য নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠে, পাশাপাশি ওই ফেরিঘাট ও সংলগ্ন এলাকা ইতোমধ্যে এবং পর্যটকদের মধ্যে আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান হিসেবে ইতোমধ্যে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে ।
আর এই ফেরিঘাট ও ফেরিসার্ভিসটি টেকসই আরো মজবুতকরণের জন্যই মূলত বাপাউবো প্রণয়ন করেন এই প্রকল্প। অনুমোদিত প্রকল্পে মূলত ফেরিঘাট মজবুতকরণ ও বিস্তীর্ণ উপকূল সুরক্ষায় ১.৩১৫ কিলোমিটার এলাকা টেকসইকরণই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম-২ এর অধীনে চলমান কাজের সাথে সঙ্গতি রেখে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট থেকে কুমিরাঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ টেকসইকরণ প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছিল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আরসাদ আলী জানান প্রকল্প কাজ যতদ্রুত শুরু করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে। পরবর্তীতে আরো অধিক পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে চলমান কাজের সাথে সঙ্গতি রেখে অবশিষ্ট প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে বলে তিনি জানান।



