৪০ কোটি টাকার স্টেডিয়ামে নেই ক্লাবভিত্তিক লিগ

কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে স্থবিরতা

Printed Edition
কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম : নয়া দিগন্ত
কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম : নয়া দিগন্ত

আ ফ ম নুরুল কাদের কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া ক্রীড়াঙ্গনে দেশের ঐতিহ্যবাহী এক জনপদ। এই জেলার মাঠ থেকে উঠে এসেছেন বহু কৃতী খেলোয়াড়। রয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা দৃষ্টিনন্দন শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম। অথচ প্রশ্ন উঠেছে, এত অবকাঠামোর পরও কেন দুই বছর ধরে নেই নিয়মিত ক্লাবভিত্তিক লিগ বা বড় কোনো টুর্নামেন্ট? ক্রীড়া সংগঠকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে জেলার ক্রীড়াঙ্গন। মাঠ আছে, অবকাঠামো আছে, খেলোয়াড়ও আছে; কিন্তু নিয়মিত প্রতিযোগিতার অভাবে অনেক প্রতিভাই হারিয়ে যাচ্ছে। এতে খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা।

জেলার সাবেক একাধিক খেলোয়াড় জানান, ক্লাবভিত্তিক খেলা ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘ দিন কমিটি যেমন নেই, তেমনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ক্লাবভিত্তিক কোনো খেলাধুলার আয়োজন নেই। জাতীয় খেলাধুলা এবং সাম্প্রতিক জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টগুলো ছিল জমজমাট। ক্রীড়ামোদি ও দর্শকেরা চাই খেলার আয়োজন। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে জেলা পরিষদ ফুটবল টুর্নামেন্টে। কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে স্টেডিয়াম মাঠে ফুটবল খেলা দেখার জন্য এত পরিমাণ দর্শক কখনো চোখে পড়েনি। তাই জেলা পরিষদের প্রশাসক সাবেক কৃতী ফুটবলার অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনকে ধন্যবাদ জানাতে কেউ কার্পণ্যতা করেনি।

কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাসে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণে স্টেডিয়ামটির নাম পরিবর্তন করা হয়। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন ও সংস্কারের পর ২০২৫ সালের ৬ মার্চ স্টেডিয়ামটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। আধুনিক এই স্টেডিয়ামে রয়েছে ক্রিকেট ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণের উন্নত সুযোগ সুবিধা। কিন্তু এত বড় অবকাঠামোর মধ্যেও নিয়মিত ক্লাবভিত্তিক লিগ না থাকায় প্রশ্ন উঠছে- স্টেডিয়াম যদি খেলোয়াড়দের জন্য হয়, তাহলে প্রতিযোগিতামূলক খেলা কোথায়? অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন না থাকায় মাঠমুখী হওয়ার বদলে অনেক তরুণ ঝুঁকছে নানা অনাকাক্সিক্ষত কর্মকাণ্ডে। বাড়ছে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যও। এমনকি স্টেডিয়াম চত্বরেও নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসার অভিযোগ উঠেছে।

কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা ক্রীড়া অফিসার মো: তানভীর হোসেন জানান, নতুন স্টেডিয়ামের শুরু থেকেই খেলাধুলা চলছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেল স্টেডিয়ামের আঙ্গিনা খেলোয়াড় ও ক্রীড়ানুরাগীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ থাকে। অ্যাডহক কমিটি গঠন না হওয়ার কারণে ক্লাবভিত্তিক খেলাধুলা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে শিগগিরই ক্রীড়া সংস্থার এফিলিয়েটেড ক্লাবগুলোর আয়োজনে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হবে। তিনি এ ব্যাপারে জেলার খেলোয়াড় ও সংগঠকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

তবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক তৌহিদ বীন হাসান বলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনে কাজ চলছে। ক্রীড়াঙ্গনের উর্বর ভূমি কুষ্টিয়া। জেলার খেলাধুলার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবভিত্তিক লীগ ও টুর্নামেন্ট চালুর মাধ্যমে স্টেডিয়ামকে আরো কার্যকর করার কথা জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, কুষ্টিয়ায় খেলাধূলা চলমান রয়েছে। স্টেডিয়াম মাঠে ৫টি উন্নতমানের পিচ বসিয়েছে বিসিবি। কুষ্টিয়ার কৃতী সন্তান হাবিবুল বাশার সুমনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা এতবড় একটি সুযোগ পেয়েছি। আশা করি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেলার ক্রিকেটাররা উপকৃত হবেন।

ক্রীড়ানুরাগীদের প্রত্যাশা শুধু উদ্বোধন বা অবকাঠামো নয়, নিয়মিত লিগ ও টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়েই প্রাণ ফিরে আসুক কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে। কুষ্টিয়ার ক্রীড়াঙ্গন কি আবার তার পুরনো ঐতিহ্যে ফিরবে, নাকি কোটি কোটি টাকার এই আধুনিক স্টেডিয়াম কেবল অবকাঠামো হয়েই থাকবে, সেদিকেই এখন নজর ক্রীড়াপ্রেমীদের।