ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ আলীপুর এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে হোতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে কোতোয়ালি থানার এসআই হাসান শিকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে।
আটককৃতরা হলেন- সদর উপজেলার চুনাঘাটা বেড়িবাঁধ এলাকার মোস্তফাডাঙ্গী গ্রামের জুয়েল বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ টেপাখোলার মাহিয়া (২০) এবং কৈজুরি ইউনিয়নের চর মঙ্গলকোট গ্রামের দুলি বেগম (৩৫)। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসা নিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ আলীপুরের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে প্রতিদিন বহিরাগত যুবক-যুবতীর আসা-যাওয়া লক্ষ করে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে ফ্ল্যাটে যুবক-যুবতীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে হাতেনাতে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটকের সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুল আউয়াল ঘটনাস্থলে এসে আটকদের ছাড়িয়ে নিতে তৎপরতা চালান। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি পুলিশকে হুমকি দিয়ে বলেন, কে খবর দিয়েছে, দেখে নেব। তবে পুলিশের অনড় অবস্থানের কারণে তাদের ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হন আউয়াল। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় যুবক অন্তু জানান, আটকদের ফ্ল্যাটে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে এবং সেখানে মাদকের গন্ধও পাওয়া যায়। দুলি বেগম পুলিশের উপস্থিতিতে স্বীকার করেছেন, শহরের একাধিক ভাড়া বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপের নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন তিনি। যুবতীদের সরবরাহের দায়িত্বও তার ওপর ছিল। পুলিশ জানায়, আটকদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপ ও গণ-উপদ্রব সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এসআই হাসান শিকদার বলেন, তারা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি ও যুব সমাজকে বিপথে নেয়ার কাজে লিপ্ত ছিল।
জানা গেছে, হোতা জুয়েল বিশ্বাস এর আগেও শহরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে নারীসহ আটক হয়েছিলেন। সে সময়ও তাকে ছাড়াতে আব্দুল আউয়াল সক্রিয় ছিলেন।
ফ্ল্যাট মালিক জাহাঙ্গীর জানান, আউয়াল নিজেকে ডিসি অফিসের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে ফ্ল্যাটটি ৯ হাজার টাকায় ভাড়া নেন। বলেছিলেন, স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে থাকবেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, ফ্ল্যাটটি অসামাজিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে ফ্ল্যাট ছাড়তে বলেছি। অভিযুক্ত আব্দুল আউয়াল বলেন, ফ্ল্যাটটি আমি নয়, আমার পরিচিত জুয়েল ভাড়া নিয়েছে। আমি শুধু ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে ফ্ল্যাট মালিকের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



