পশ্চিমতীর দখলের ইসরাইলি পদক্ষেপ রেড লাইন অতিক্রম বলে বিবেচিত হবে : আমিরাত

Printed Edition

গাল্ফ নিউজ

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের করা সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, পশ্চিমতীর দখলের যেকোনো পদক্ষেপ ইসরাইলের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম বলে বিবেচিত হবে এবং আব্রাহাম চুক্তির মূল চেতনা ধ্বংস করবে।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো ইসরাইলের সাথে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব হামলা মুসলমানদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও চরমপন্থী কর্মকাণ্ডের শামিল। এসব এখনই বন্ধ হওয়া উচিত। তুলকারেমে একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে আমিরাত জানিয়েছে, এ ধরনের হামলার পূর্ণ দায় ইসরাইলি সরকারের। একই সাথে হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমিরাত সতর্ক করে বলেছে, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে সেটিকে তাদের প্রতি নীরব সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যা ঘৃণা, বর্ণবাদ ও অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা আরো বাড়িয়ে তুলবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পরিকল্পনাকে স্বাধীন রাষ্ট্রের আশা-আকাক্সক্ষার জন্য ‘সরাসরি হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানায়নি ইসরাইল।

বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস বন্ধে ট্রাম্পকে চিঠি

এ দিকে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলের শত শত সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতা ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং ওই অঞ্চলে আমেরিকার স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর সংগৃহীত একটি চিঠিতে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার পাঠানো এই চিঠিটির উদ্যোগ নিয়েছে ‘কমান্ডার্স ফর ইসরাইলস সিকিউরিটি’ নামের একটি সংগঠন। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, পুলিশ ও কূটনৈতিক কোরের প্রায় ৬০০ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই সংগঠনের সদস্য। হোয়াইট হাউজে মঙ্গলবার নেতানিয়াহুর সাথে ট্রাম্পের নির্ধারিত বৈঠকের আগে চিঠিটি পাঠানো হয়। সংগঠনটির পক্ষে ইসরাইলের সাবেক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মাতান ভিলনাই এতে স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘পশ্চিম তীরে বাড়তে থাকা সহিংসতা দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে থামানো না গেলে তা আঞ্চলিক সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে। এটি ইসরাইলের নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের জন্য গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে।’

চিঠিতে ট্রাম্পের উদ্দেশে আরো বলা হয়, ট্রাম্পের এই বিপর্যয় রোধ করার সক্ষমতা রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর সাথে আসন্ন বৈঠকে যেন তিনি এ বিষয়ে একটি শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট বার্তা দেন। চিঠিটিতে স্বাক্ষরকারীরা বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনী পশ্চিম তীরে হামাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর মুখোমুখি হলেও তথাকথিত ‘ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাস’ মোকাবেলার ক্ষেত্রে তাদের কঠোর সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তারা আরো লেখেন, ‘আমাদের সরকারের সদস্যরা আইন থেকে বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহতি দিয়ে এই বিশৃঙ্খলার বড় একটি অংশের জন্য দায়ী, যা এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পত্তির ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে পূর্ব জেরুজালেমসহ সমগ্র পশ্চিম তীরের ১৫৬টি বসতি ও ৩৬০টি অঘোষিত আউটপোস্টে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ইসরাইলি বসবাস করছে।