সংসদ প্রতিবেদক
রাজপথের তীব্র আন্দোলনের পর এবার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মালিকানা, ব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রতিক শীর্ষ পর্ষদ পরিবর্তন ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় সংসদ। ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এই প্রথম ব্যাংক খাতের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় সরকার ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা এত দীর্ঘ ও আক্রমণাত্মক বিতর্কে জড়ালেন।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় বিশেষ সংস্থার মাধ্যমে জোরজবরদস্তি করে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের যে শেয়ার ডাকাতি করেছিল, তা প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে না দিয়ে বর্তমান সরকার উল্টো এস আলমের দোসর ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ব্যাংকের শীর্ষ পদে বসাচ্ছে। অপর দিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ব্যাংকটিকে গতিশীল করতে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মালিকদের হাতে শেয়ার ফিরিয়ে দিতেই এই অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
সংসদীয় প্রস্তাব ও আলোচনার প্রেক্ষাপট
গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ ধারা অনুযায়ী একটি জরুরি প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান। প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু ছিল- ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারগুলো বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সকল প্রকার অন্যায়, অযৌক্তিক ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রাখার স্বার্থে জরুরি আলোচনা।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ সারির সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।
বিরোধী দলের হুশিয়ারী : অর্থনীতি মাটির সাথে মিশে যাবে
আলোচনার সূত্রপাত করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন : ‘ইসলামী ব্যাংক কোনো কারণে আরো ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ সুনামি নেমে আসবে। দেশের সর্ববৃহৎ এই ব্যাংকটির পতনের অর্থ হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি মাটির সাথে মিশে যাওয়া।’
তিনি উল্লেখ করেন, বিগত আমলে বিশেষ সংস্থার ভয় দেখিয়ে প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল। এস আলম গ্রুপ মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে কৌশলে ৮২ শতাংশ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ভুয়া কোম্পানির নামে ব্যাংকটি থেকে ৮২ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়ে যায়।
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, এই ব্যক্তি রংপুর অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ৫২ লাখ টাকার অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছিল। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে তিনি এস আলমের যাবতীয় আর্থিক অপকর্মে সরাসরি কুশীলব হিসেবে কাজ করেছিলেন। পুরস্কার হিসেবে তার স্ত্রীর নামে একটি অস্তিত্বহীন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে সাড়ে তিন কোটি টাকার ঋণ দেয়া হয়েছিল।
ডা: শফিকুর রহমান নিজেকে ব্যাংকটির একজন ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক পরিচয় দিয়ে বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ধর্মের ব্যাংক নয়। এটি দেশের মানুষের আস্থার একটি পিরামিড। কিন্তু সরকারের অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপে চেয়ারম্যান জুবায়েদুর রহমান ও এমডি ওমর ফারুককে পদত্যাগে বাধ্য করায় প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং আতঙ্কিত গ্রাহকরা মাত্র ৪ দিনে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন।
বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন করে ২৬ হাজার কোটি টাকার আমানত জমা পড়ায় ব্যাংকটি যখন মাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, তখন বর্তমান সরকার বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বদলে ব্যাংকটি পুনর্দখল করতে ‘পরীক্ষিত দুর্নীতিবাজদের’ দায়িত্বে বসাচ্ছে।
তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরাসরি উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় আন্তর্জাতিক ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), কুয়েত ফাইন্যান্স এবং আল-রাজি গ্রুপের মতো বিশ্বখ্যাত প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নে এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অথচ এস আলম গ্রুপ ২৬টি ভুয়া কোম্পানি খুলে, যার মালিক হিসেবে পিয়ন, দারোয়ান ও গাড়িচালকদের নাম ব্যবহার করে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন, অবিলম্বে সৎ লোকদের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা না করলে ব্যাংকের ৩ কোটি গ্রাহক রাস্তায় নামবে এবং দেশে দ্বিতীয় দফার গণ-আন্দোলন সৃষ্টি হবে।
ব্যাংকিং খাতের সার্বিক চিত্র ও বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সাইফুল আলম খান মিলন
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে দেশে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ৯.২ শতাংশ। ২০২৬ সালে এসে তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৩২.২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে একসময় খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২-৩ শতাংশ, যা এস আলমের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ৭৯ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টি এবং ১৪টি ইসলামী ধারার ব্যাংকের মধ্যে একটি বড় অংশ সময়মতো গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। সাম্প্রতিক পর্ষদ পরিবর্তনের আতঙ্কে ইসলামী ব্যাংক থেকে মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়া হয়েছে।
জনাব মিলন বলেন, ৮৯ কোটি টাকার ঋণখেলাপি একজনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে। ডলারের দাম ৮৪ টাকা থেকে ১২৬ টাকায় উঠেছে। বৈশ্বিক রেটিং এজেন্সি মুডিজ, এসঅ্যান্ডপি ও ফিচের রেটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ‘পজিটিভ/স্ট্যাবল’ থেকে ‘বি প্লাস’ বা ‘নেগেটিভে’ নেমে গেছে। সাইপ্রাস সরকার ইতোমধ্যে এস আলমের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে, অথচ আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চুপ। তিনি সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ডিফেন্স ও পাল্টা অভিযোগ
বিরোধী দলের নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদে ঘোষণা দেন যে, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে। তবে তিনি উল্টো জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে কিছু অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস)-এর অধীনে এ পর্যন্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর (গত কয়েক মাসে) তড়িঘড়ি করে দেয়া হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। গ্রামীণ নারীদের ১০ হাজার টাকা করে লোন দিয়ে ‘কুরআনের দল’ পরিচয়ে রাজনৈতিক ভোট চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থের কোনো সঠিক অডিট বা হিসাব নেই, যা তদন্ত করে উদ্ধার করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, নাবিল গ্রুপ ৭০০ কোটি টাকার এলসির বিপরীতে ঋণ নিয়ে তা ফেরত দেয়নি, যদিও তাদের মোট ১৬ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক দায় রয়েছে। একইভাবে লান্তাবোর গ্রুপকে প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচনের ঠিক আগে ৪০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। সিএসআর তহবিলের অর্থ দিয়ে ঢাকা-কক্সবাজারের বিমানের টিকিট কাটার মতো অনিয়ম হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা একটি নির্দিষ্ট দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে।
তিনি বলেন, বিগত দিনে ব্যাংকটি যখন দখলমুক্ত হয়, তখন নিয়মবহির্ভূতভাবে ৯ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়া ছয় হাজার নতুন নিয়োগ ও ১৩ হাজার পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এদের বৈধতা তদন্ত করা হবে।
আইনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও ৫৭(এ) ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থ ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল বা চেয়ারম্যানকে অপসারণের পূর্ণ ক্ষমতা রাখে। বর্তমান নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যতক্ষণ প্রমাণিত না হচ্ছে, ততক্ষণ ‘প্রিজাম্পশন অব ইনোসেন্স’ নীতি অনুযায়ী তাকে দোষী বলা যাবে না। তবে ব্যাংকে যারা ‘কলম বিরতি’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উসকানি দিচ্ছে, তাদের অডিও-ভিডিও প্রমাণ সরকারের কাছে আছে। কোনো মবোক্রেসি বা উচ্ছৃঙ্খলতা সহ্য করা হবে না।’’
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য : ইসলামী ব্যাংক বিএনপির হাতেই নিরাপদ
বিতর্কের সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক রাজনৈতিক সমীকরণ টেনে বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই ব্যাংকের গোড়াপত্তন করেছিলেন। তাই ইসলামী ব্যাংকের মর্যাদা, ঐতিহ্য ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিএনপি এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই সবচেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসলামী ব্যাংক বিএনপি সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ।’
বিরোধী দলের তোলা মুনাফা বৃদ্ধির দাবি নস্যাৎ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল যে শত কোটি টাকার মুনাফা বৃদ্ধির খতিয়ান দেখাচ্ছে, তা মূলত ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বা হিসাবের কারচুপি। খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ডেফারেলের (ছাড়) কারণে এই কৃত্রিম চিত্র তৈরি হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে ২০২৫ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়, যা মোট ঋণের ৫১ শতাংশ। আর প্রভিশন ডেফারেল ৬৯ হাজার কোটি থেকে বেড়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকা হওয়ায় ২০২৬ সালের শুরুতে ব্যাংকটি ২৬৮ কোটি টাকা নিট লোকসানে পড়েছে।
অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের কোথাও গ্রাহকেরা চেয়ারম্যানের নাম দেখে টাকা জমা রাখে না বা তোলে না, তারা দেখে আমানতের নিরাপত্তা। চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে ৭০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের দাবি অবাস্তব; বরং একটি উগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মিছিল-মিটিং ও ব্যাংকের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে গ্রাহকদের মধ্যে কৃত্রিম আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, যাতে দেশের আর্থিক খাতকে ধ্বংস করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা যায়।
বর্তমান গভর্নরের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণগ্রস্ত হওয়া কোনো অপরাধ নয়। সংসদের অনেক ব্যবসায়ী সদস্যেরই ব্যাংকঋণ রয়েছে। তিনি বিরোধী দলকে তুচ্ছ ইস্যুতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সিদ্ধান্ত ও সমাপনী
উভয় পক্ষের দীর্ঘ ও উত্তপ্ত যুক্তি-তর্ক শেষে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ইসলামী ব্যাংকের সামগ্রিক অনিয়ম, মালিকানা এবং বর্তমান সঙ্কট তদন্তে একটি ‘সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি’ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
তবে অধিবেশনে সভাপতিত্বকারী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ ইতোমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ফলে এই বিষয়ে নতুন কোনো সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা নেই।’ স্পিকারের এই ঘোষণার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদের দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক বিতর্কের সমাপ্তি ঘটে।



